Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

‘বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর যত ঘুষ দিয়েছি, আগে কখনো দিইনি’

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:২০ পিএম

‘বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর যত ঘুষ দিয়েছি, আগে কখনো দিইনি’

বিজ্ঞাপন

বিসিএস ক্যাডার হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর পদে পদে ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হওয়ার এক বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ওয়ালিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর যত ঘুষ দিয়েছি, আগে কখনো দেইনি’। 

সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি এই বক্তব্য দেন। তার এই লাইভ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

ওয়ালিদ ইসলাম বর্তমানে কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে ‘ফার্স্ট সেক্রেটারি’ হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ  থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা বিভাগের যশোর জেলায়।

লাইভে ওয়ালিদ ইসলাম বলেন, ‘আমার যখন বিসিএস-এর রেজাল্ট দিলো, আমরা সবগুলো বন্ধু-বান্ধবী একসাথে বসে গেলাম যে— আমি জীবনে কোনদিন দুর্নীতি করবো না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না। কিন্তু তার কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের ভেরিফিকেশন শুরু হলো। যিনি ভেরিফিকেশন করছেন, তাকে আমাদের মিনিমাম দেড় হাজার টাকা করে দিতে হলো। অনেকের কাছ থেকে অনেক অনেক বেশি নিতে হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ক্যাডার হওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস বেতন না হওয়ায় এবং সামনে ঈদ থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েন। সেই সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফরেন অ্যাফেয়ার্সের ক্ষেত্রে লাগেনি, কিন্তু অনেক জায়গায় অধিকাংশ জায়গায় এই মিষ্টি খাওয়ার টাকা (ঘুষ) না দেওয়া পর্যন্ত বেতনটা ছাড়েই নাই। দুই মাস, আড়াই মাস, তিন মাস পর্যন্ত আমরা আসলে বেতন পাইনি। পরে মিষ্টি খাওয়ার টাকা দিলে বেতন টা ছাড়া হয়েছে।’

ঢাকায় আবাসন সংকটের কথা উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আবাসন সংকট থাকার কারণে আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগে বারবার যোগাযোগ করেছি যে আমাদের ঢাকায় থাকার জন্য কোনো কোয়ার্টার দেওয়া যায় কিনা। যারা পেয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।’

ট্রেনিং পিরিয়ডের ভাতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়ালিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার থেকে আমাদের যে ট্রেনিং অ্যালাউন্স দেওয়া হয়, সেটা মাস শেষে ২০ হাজার ৩০০ বা ৬০০ টাকা আসে। কি আশ্চর্য বিষয় জানেন! আমাদেরকে জোর করে— বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখিয়ে যে এখানে সাইন না করলে বার করে দেওয়া হবে— সেই টাকা আমাদের হাতে দেওয়া হয় নাই। ওনারা নিজেরাই আমাদেরকে রান্নাবাড়া করে খাইয়ে তার বদলে চোখ বন্ধ করে সিগনেচার দিতে হয়েছে যে, আমরা এই টাকা নিজেরা হাতে নিয়েছি।’

সিস্টেমের এই গলদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এত কিছুর পরে আপনারা কীভাবে এক্সপেক্ট করেন যে আমি একজন সৎ অফিসার হবো? শুধু আমি না, আমার ব্যাচের সবাই এগুলো ফেস করেছে। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পরে আমি যে পরিমাণ ঘুষ আর যে পরিমাণ দুর্নীতির সাথে আপোষ করে গেছি... এত পরিমাণ ঘুষ আমি আমার জীবনে দেই নাই যত পরিমাণ ঘুষ আমি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পরে দিয়েছি। এই সিস্টেমগুলো কবে চেঞ্জ হবে?’

তবে লাইভটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে তিনি ভিডিওটি ডিলিট করে দেন। 

পরবর্তীতে সোমবার রাত ১০টার দিকে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে ভিডিও ডিলিট করার কারণ ব্যাখ্যা করে ওয়ালিদ ইসলাম লেখেন, ‘আমি আমার এই পোস্টটা ডিলিট করে দিয়েছি। কোন চাপ বা কোন ভয়ে করিনি। আমার চেহারা নিয়ে, দাঁত নিয়ে, গায়ের রঙ নিয়ে খুবই জঘন্য কিছু মন্তব্য আসতে শুরু করেছে। তারপর আমার সামাজিক আন্দোলনমূলক পোস্টকে পুরোপুরি রাজনৈতিক মন্তব্য করছে সবাই। আমি কোনো রাজনৈতিক দল নিয়ে মন্তব্য করিনি, আমি সিস্টেমের বিপক্ষে বলেছি। চাপ কোনো পর্যায় থেকেই পাইনি। 

আমার সোজা একটা স্টেটমেন্টকে প্রত্যেকে তার রাজনৈতিক বিশ্বাস অনুযায়ী যে যেভাবে পারছে ব্যবহার করছে দেখে পোস্টটা ডিলিট করতে বাধ্য হয়েছি। এদেশে সবাই একই রকম, কি সরকারি চাকুরে আর কি আমজনতা!’

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার