বিজ্ঞাপন
এবার যশোর আদ-দ্বীনে রোগীরমৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বিজ্ঞাপন
যশোরের আদ-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরতলীর চাঁচড়ায় অবস্থিত হাসপাতালটিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমরান হোসেন (২৮) শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের গাজীপাড়া এলাকার শওকত হোসেনের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে একের পর এক ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে অক্সিজেন দেওয়ার পরিবর্তে ইনজেকশন প্রয়োগের পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
ইমরানের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, প্রথম ইনজেকশনের পর থেকেই ইমরান অস্বস্তি অনুভব করেন এবং পরবর্তী ইনজেকশন না দেওয়ার অনুরোধ জানান। দ্বিতীয় ইনজেকশনের পর তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে। পরে আরও একটি ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে মৃত্যুর ঘটনার পর স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পাশাপাশি চিকিৎসকদের কাছ থেকে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন চিকিৎসায় কোনো গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রোগীকে জরুরি বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখেছেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ কাজ করছে।
এর আগে, রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হোসাইন মো. মঈনুল আহসান এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।
জানা গেছে, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান। এদিকে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পায়। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি হাসপাতালটিতে আরও নানা ধরনের অসংগতি পায়।