বিজ্ঞাপন
চিৎকার করেছিলাম, কেউ এগিয়ে আসেনি : জবানবন্দিতে ধর্ষিতা নারী
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছিলাম। গরম সহ্য করতে না পেরে একটু স্বস্তির খোঁজে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে লিফটের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আমার পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে গেল। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত আমাকে হাত চেপে ধরে লিফটের ভেতর টেনে নিয়ে যায়। এরপর আমাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি চিৎকার করেছিলাম, প্রাণপণে বাঁচার চেষ্টা করেছি—কিন্তু কেউ আমাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে নাটোরের আদালতে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ওপর ঘটা সেই অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা এভাবেই দিলেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা দুই সন্তানের জননী। ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের সময় তিনি ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুক্তভোগী নারীকে আদালতে হাজির করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন আরা ওই নারীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে ওই নারীকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী নারী জানান, ছাদে নিয়ে যাওয়ার পর অমিত তাকে ধর্ষণ করে। একই সময়ে অনিল ও প্রাঙ্গণ নামের অপর দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, অমিতের নির্দেশে অনিল ও প্রাঙ্গণ কিছুক্ষণ চলে গেলেও পরে আবার ফিরে আসে। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারাও আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু অমিত তখন তাদের তাড়িয়ে দেয়।
নির্যাতনের পর চরম আতঙ্কে ওয়ার্ডে ফিরে গিয়ে তিনি দেখেন তার শিশুসন্তান কান্নাকাটি করছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে তিনি হাসপাতালের আনসার সদস্যদের পুরো বিষয়টি জানান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার পর তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান বলেন, আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য সব ধরনের আইনি প্রস্তুতি নিয়েছি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।
গত ৫ জুন দুই বছরের অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন ভুক্তভোগী মা। গত ৭ জুন রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের ভেতর এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অমিত, অনিল ও প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে।