বিজ্ঞাপন
এক মাসেই গ্রাহকরা তুলে নিয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা
কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি ইসলামী ব্যাংক
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:২০ এএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটিতে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই আন্দোলন চলছে তার পদত্যাগ দাবিতে। এরমধ্যেই আশঙ্কায় এক মাসেই ৯ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন ব্যাংকটির গ্রাহকরা। ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অবশ্য এ সময়ের মধ্যে কিছু আমানতও এসেছে। গেল মে মাস থেকে শুরু করে আজ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮০০ কোটি টাকার আমানত এসেছে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে। সে হিসেবে এক মাসে ইসলামী ব্যাংকের আমানত কমেছে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।
তবে, যে হারে টাকা তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকরা সে অনুযায়ী আমানত না আসায় ইতিমধ্যেই নগদ টাকার সংকটে পড়েছে বিভিন্ন শাখা। ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
তথ্য মতে, গেল মে মাসের তিন তারিখে ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। আজ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমানত কমেছে ৮ হাজার কোটি টাকায়। আমানত কমার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা থাকা ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর কমে গেছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
ইসলামী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তবে ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বর্তমান অবস্থায় খুবই শঙ্কিত। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকটি খুব দ্রুতই সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির পক্ষ থেকেও ব্যাংক সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা সংবাদ মাধ্যম কোথাও কথা বলা যাবে না বলে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, এমন অবস্থা চলতে থাকলে ইসলামী ব্যাংক খুবই দ্রুততম সময়ে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট নেগেটিভ হয়ে যাবে। এতে করে ইসলামী ব্যাংক আরো বেশি সংকটে পড়বে।
ইসলামী ব্যাংকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানায়, আমানত তোলায় সবচেয়ে বেশি হার দেখা গেছে ঈদের ছুটির পরে। গেল ৫ কার্যদিবসেই তোলা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এদিকে তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি। আজ মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে ব্যাংকটির সিআরআর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল। তবে গত এক সপ্তাহে গ্রাহকদের আতঙ্কজনিত অর্থ উত্তোলনের কারণে সিআরআর নেগেটিভে চলে গেছে।
‘আমাদের রিকোয়ারমেন্ট (চাহিদা) রয়েছে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার। আমরা এর চেয়েও বেশি রাখতে সক্ষম ছিলাম। কিন্তু বর্তমান সংকটের কারণে তা কমে ২,৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা আমাদের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এখনও পজিটিভ রয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সিআরআর ঘাটতিতে চলে যাওয়ায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের স্থানীয় শাখার তথ্য মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় শাখার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গতকাল সোমবার ২০ কোটি টাকার চেক পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া গেছে মাত্র ৮০ লাখ টাকা। এ টাকা দিয়ে প্রয়োজনের ১ শতাংশও পূরণ হয়নি। আজ মঙ্গলবারও ২০ কোটি টাকা চাওয়া হয়।