Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালুতে ঋণ সর্বোচ্চ কত ও কারা পাবেন, অযোগ্য কারা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালুতে ঋণ সর্বোচ্চ কত ও কারা পাবেন, অযোগ্য কারা

বিজ্ঞাপন

বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রেখে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ স্কিম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ঋণ খেলাপি, অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং অতীতে ঋণের অর্থ অপব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাবেন না।

তিন বছরের জন্য বন্ধ শিল্প ও সেবাখাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার এই প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আওতায় ঋণগ্রহীতারা এক বছরের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষ এই স্কিমে বন্ধ কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালুর ক্ষেত্রে রফতানিমুখী শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া ঋণ খেলাপি, ঋণ জালিয়াতি, অর্থপাচারে অভিযুক্ত এবং অতীতে ঋণের অর্থ অপব্যবহারকারীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণ দেয়ার আগে ব্যাংকগুলোকে প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি কেন প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত প্রয়োজন মূল্যায়ন (নিড অ্যাসেসমেন্ট) করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও যাচাই-বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, যেসব প্রকল্প থেকে আয় আসে না, সেখানে অর্থায়ন করলে সেই অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই নিশ্চিত করতে হবে, ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে এবং সেখান থেকে আয় সৃষ্টি হচ্ছে। সেই আয় থেকেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে আগামী বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, বাজেটের আকার এবং ব্যাংক খাতের সক্ষমতা বিবেচনায় ২০ হাজার কোটি টাকার এই স্কিম কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বেসরকারি খাতের চাহিদা বাড়লে সেটিকে গতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাই এমনভাবে পরিকল্পনা করা হবে, যাতে একটি খাতের কারণে অন্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

এই তহবিলের অর্থ আংশিক উৎপাদনে থাকা কারখানাকে পূর্ণ উৎপাদনে নিতে মূলধন ঘাটতি পূরণ, কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, রফতানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে।

তবে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার