বিজ্ঞাপন
পেট্রোলের বিকল্প ইথানল, নতুন বাইক আনছে রয়্যাল এনফিল্ড, ইয়ামাহা-সুজুকি
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
দুই-চাকার যানবাহনের বাজারে ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এতদিন পরিবেশবান্ধব পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যানবাহনই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এখন নির্মাতারা এমন এক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন, যা একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং ব্যবহারকারীদের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে। সেই প্রযুক্তির নাম ফ্লেক্স-ফুয়েল বা ইথানল-চালিত ইঞ্জিন।
বিখ্যাত মোটরসাইকেল নির্মাতা রয়্যাল এনফিল্ড, ইয়ামাহা এবং সুজুকি এরই মধ্যে ভারতীয় বাজারে এমন মোটরসাইকেল তৈরির কাজ শুরু করেছে, যা উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে সক্ষম হবে। ফলে ভবিষ্যতে পেট্রোলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।
ইথানল জ্বালানি কী?
ইথানল একটি নবায়নযোগ্য জৈব জ্বালানি, যা সাধারণত আখ, ভুট্টা, শস্য এবং অন্যান্য কৃষিজ পণ্য থেকে উৎপাদন করা হয়। প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় এটি কম দূষণ সৃষ্টি করে এবং উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে অনেক দেশে পেট্রোলের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইথানল মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। তবে নতুন প্রজন্মের ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি আরও বেশি ইথানল ব্যবহারকে সম্ভব করে তুলবে।
রয়্যাল এনফিল্ডের নতুন পরিকল্পনা
সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে দেখা গেছে, রয়্যাল এনফিল্ড এমন একটি মোটরসাইকেল নিয়ে কাজ করছে যার জ্বালানি ব্যবস্থায় ই৮৫ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে। ই৮৫ বলতে বোঝায় এমন জ্বালানি, যেখানে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত থাকে। এই ধরনের প্রযুক্তি ইঞ্জিনকে উচ্চমাত্রার ইথানল ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে। ফলে ভবিষ্যতে আরও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পথ সুগম হবে।
পিছিয়ে নেই ইয়ামাহা ও সুজুকি
শুধু রয়্যাল এনফিল্ড নয়, ইয়ামাহা এবং সুজুকিও তাদের জনপ্রিয় কমিউটার ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টের বাইকগুলোকে ফ্লেক্স-ফুয়েল উপযোগী করার জন্য গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষামূলক মডেল এরই মধ্যে রাস্তায় পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এসব প্রযুক্তির বাইক বাজারে আসতে পারে।
কেন বাড়ছে ইথানলের গুরুত্ব?
কমবে জ্বালানি ব্যয়
ইথানল সাধারণত পেট্রোলের তুলনায় কম খরচে উৎপাদন করা যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে মোটরসাইকেল চালানোর খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।
ভারতের মতো দেশগুলোকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানল ব্যবহার করলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই হ্রাস পাবে।
পরিবেশের জন্য উপকারী
ইথানলভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে কম হয়। ফলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির বিশেষ সুবিধা
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর নমনীয়তা। চালককে নির্দিষ্ট ধরনের জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয় না। একই ইঞ্জিনে প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রোল, কম বা বেশি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে জ্বালানি প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ কমবে এবং ব্যবহারকারীরা আরও সহজে বিকল্প জ্বালানির সুবিধা নিতে পারবেন।
ভবিষ্যতের মোটরসাইকেল বাজার কোন দিকে?
বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ছে। সেই প্রবণতার অংশ হিসেবেই মোটরসাইকেল নির্মাতারা এখন ইথানলভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দশকে ফ্লেক্স-ফুয়েল মোটরসাইকেল সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বিকল্প হয়ে উঠবে।
পেট্রোলের ক্রমবর্ধমান দাম, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে ইথানল-চালিত বাইক আগামী দিনের মোটরসাইকেল শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।