Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

১ মাসের ব্যবধানে ২ বার তালাক নারীর, পরকীয়ার ভয়াবহ পরিণতি!

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

১ মাসের ব্যবধানে ২ বার তালাক নারীর, পরকীয়ার ভয়াবহ পরিণতি!

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ ২৩ বছরের বৈবাহিক জীবন ও সাজানো সংসার। কিন্তু সেই দীর্ঘ সম্পকের মায়া তুচ্ছ হয়ে গেল ৭ বছরের গভীর পরকীয়া প্রেমের টানে। পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়ার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বিয়ে, কিন্তু সেই নতুন সংসারও টিকল না মাত্র কয়েকদিন! ১ মাস ১২ দিনের এক অবিশ্বাস্য ঝোড়ো গতিতে ২ বার বিয়ে এবং ২ বার তালাকের এমন এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। স্থানীয় নিভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে এক চরম পারিবারিক নাটক ও পরকীয়ার ভয়ঙ্কর পরিণতি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ঘটনার মূল হোতা নাছিমা বেগম (৪০)। তাঁর জীবনের এই নাটকীয় মোড়ের সাথে জড়িয়ে আছেন দুই ব্যক্তির প্রথম স্বামী ওসমান গনি এবং পরকীয়া প্রেমিক ও দ্বিতীয় স্বামী সোহেল মিয়া।

দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর আগে মির্জাপুরের রাজাবাড়ী নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুল খালেক মাবির ছেলে ওসমান গনির সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন নাছিমা বেগম। দীর্ঘ দুই যুগের এই সংসারে ভালোই চলছিল সবকিছু। কিন্তু বিগত ৭ বছর আগে নাছিমা বেগম গোপনে জড়িয়ে পড়েন উপজেলার নাজিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র সোহেল মিয়ার সাথে গভীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে। দীর্ঘ ৭ বছর এই অবৈধ সম্পর্ক গোপনে চালিয়ে যাওয়ার পর, গত মে মাসের শুরুতে নাছিমা বেগম তাঁর ২৩ বছরের প্রথম স্বামী ওসমান গনিকে ডিভোর্স (তালাক) দেন।

ওসমান গনিকে তালাক দেওয়ার পরপরই ২ মে তারিখে নাছিমা বেগম তাঁর ৭ বছরের পরকীয়া প্রেমিক সোহেল মিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সফল সমাপ্তি মনে হলেও, সেই সুখ সইল না মাত্র ৯ দিন! বিয়ের পরদিনই শুরু হয় তুমুল পারিবারিক কলহ। পরকীয়া আর বাস্তব সংসারের তফাত বুঝতে পেরে স্বামী সোহেল মিয়া বিয়ের মাত্র ৯ দিনের মাথায়স্ত্রীর সাথে বনিবনা ও মনের অমিল হওয়ার কারণ দেখিয়ে নাছিমা বেগমকে তালাক প্রদান করেন।

এদিকে প্রেমিক সোহেলের কাছে ছ্যাঁকা খেয়ে এবং মাত্র ৯ দিনে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে নাছিমা বেগম এক চরম ধুরন্ধর চাল চালেন। সোহেল মিয়ার সাথে তালাকের মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে তিনি পুনরায় তাঁর দ্বিতীয় স্বামী সোহেলকে ফুঁসলিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে রুমের ভেতর আটকিয়ে জিম্মি করে। পরে এবার নতুন নাটকীয় মোড়, তবে এবার সাধারণ নিয়মে নয়, বরং আদালতের হলফনামা মূলে এবং নগদ পাঁচ লক্ষ পাঁচ টাকা মোটা অঙ্কের কাবিন সম্পন্ন হয়। তবে এ বিষয়ে এবার রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সোহেল।

সোহেলের দাবি, সম্প্রতি তিনি তার ব্যক্তিগত কাজে রাজাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বখাটেরা তাকে আটক করে নাছিমার বাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে একটি রুমের ভেতর আটকিয়ে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জিম্মি অবস্থায় ৫ লাখ টাকার কাবিন সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ করেন।

মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে দুটি বিয়ে এবং দুটি তালাকের এই ঘটনাটি মির্জাপুরে এখন টক অব দ্য টাউন। স্থানীয় সচেতন মহল ও আইনজীবীদের মতে, এটি কোনো সাধারণ পারিবারিক কলহ নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে দেনমোহরের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি আইনি ফাঁদ বা চক্রান্ত হতে পারে। দুটি তালাকের এই ঘটনাটি মির্জাপুরের স্থানীয় আইনজীবি ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। প্রথম তালাকের পর মুসলিম আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ‘ইদ্দত কাল’ (সাধারণত তিন মাস) যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না, কিংবা এত দ্রুত মোটা অঙ্কের দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে ও দ্রুত তালাকের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না তা নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা গুঞ্জন চলছে। একের পর এক বিয়ে ও দ্রুত তালাকের এই ঘটনাকে অনেকেই “পারিবারিক আইনের অপব্যবহার, পরকীয়া প্রেমের অন্ধজাল এবং সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার