বিজ্ঞাপন
সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের, তারও ছিল কাটা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
বিজ্ঞাপন
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থার অংশ ‘রেড টেলিফোন’ হঠাৎ অচল হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। টেলিফোনের তার ছিল কাটা, কোথাও কোথাও তার ছিলও না। পরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তাদের সাত ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগটি পুনরুদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, গত সোমবার (১ জুন) এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সরকারের একাধিক সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করছে, অনুসন্ধানেও রয়েছে একটি টিম।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তাছাড়া গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তাও এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, ঈদুল আযহার ৭ দিনের ছুটি শেষে গত সোমবার সচিবালয়ের কার্যক্রম চালু হয়। এদিন সকাল ৮টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত অফিস উপলক্ষে তার কার্যালয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় তার রেড টেলিফোনটির টিউন (সংযোগ) না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে বিটিসিএলের একটি টিম টানা সাত ঘণ্টা কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ পুনঃস্থাপন করে।
এ বিষয়ে বিটিসিএল কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনে সংযোগ না থাকার বিষয়টি সকাল ৮টার দিকে আমাদের জানানো হয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে টেলিফোন সেটসহ এর অন্য বিষয়গুলো পরীক্ষা করে কাজ শুরু করি। বেলা ৩টার দিকে সংযোগটি সচল করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের ‘টিউন গায়েবের ঘটনা স্বাভাবিক নয়’। এটি উচ্চপর্যায়ের স্পর্শকাতর বিষয় সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যক্তিসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ লোকজনের সঙ্গে তিনি এই ফোনের মাধ্যমে কথা বলেন এবং তথ্য আদান-প্রদান করে থাকেন।
এ বিষয়ে কথা হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে এখনো কিছু জানি না।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য বিটিসিএলের ফোন-৩ শাখার ব্যবস্থাপক নাজিম হায়দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে বিটিসিএলের নেওয়া পদক্ষেপের একটি ব্যাখ্যা দেওয়ে হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত সোমবার সচিবালয়ের দায়িত্বরত কর্মীরা অফিসে এসে দেখতে পান গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন লাইনগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। সচিবালয়ের পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত মূল্যবান কপার ক্যাবলগুলো ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন। কোথাও কোথাও তার কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছু কিছু জায়গায় তার ছিল না। এতে শুধু সাধারণ টেলিফোনই নয়; বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।