বিজ্ঞাপন
কানাডায় যাওয়ার প্রথম ৭ দিনে যা যা করবেন
বিদেশে উচ্চশিক্ষা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০২:৩৩ এএম
বিজ্ঞাপন
উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় পা রাখার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সামনে একেবারে নতুন এক জীবন শুরু হয়। নতুন পরিবেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি ও অচেনা মানুষের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া অনেকের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ের সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে পারে। আজ আমরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কানাডায় দ্রুত মানিয়ে নিতে করণীয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানব।
১. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুছিয়ে নিরাপদে রাখা
কানাডায় পৌঁছানোর পর প্রথম কাজগুলোর একটি হলো, সব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ঠিকভাবে গুছিয়ে রাখা। এর মধ্যে থাকে পাসপোর্ট, স্টাডি পারমিট, ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কাগজপত্র ও ভ্রমণসংক্রান্ত ডকুমেন্ট।
এগুলো শুধু গুছিয়ে রাখাই নয়, বরং ফটোকপি ও ডিজিটাল ব্যাকআপ রাখা জরুরি, যাতে হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমস্যা না হয়।
২. থাকার জায়গায় স্থিত হওয়া
নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে আবাসন খুব বড় ভূমিকা রাখে। ক্যাম্পাস ডরমিটরি, হোমস্টে বা ভাড়া বাসা—যেখানেই থাকুন না কেন, প্রথম সপ্তাহেই সেটেল হওয়া জরুরি।
এর পাশাপাশি আশপাশের এলাকা যেমন গ্রোসারি স্টোর, ফার্মেসি, বাসস্টপ ও প্রয়োজনীয় সার্ভিস সম্পর্কে ধারণা নেওয়া দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে।
৩. মোবাইল ও ইন্টারনেট সেটআপ করা
যোগাযোগ, ব্যাংকিং, ম্যাপ ও জরুরি সেবার জন্য স্থানীয় সিমকার্ড নেওয়া জরুরি। বিভিন্ন মোবাইল প্ল্যান তুলনা করে উপযুক্তটি নির্বাচন করা উচিত।
ইন্টারনেট সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে অনলাইন ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্টের জন্য। অফ-ক্যাম্পাসে থাকলে ভাড়ার মধ্যে ইন্টারনেট অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার।
৪. কানাডিয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা
দৈনন্দিন খরচ পরিচালনার জন্য স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য কম বা শূন্য ফিতে বিশেষ অ্যাকাউন্ট সুবিধা দিয়ে থাকে।
সাধারণত পাসপোর্ট, স্টাডি পারমিট ও এনরোলমেন্ট প্রমাণপত্র প্রয়োজন হয়। কানাডার ব্যাংকিং ব্যবস্থা—ডেবিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং ও ট্রান্সফার—শুরুতেই বুঝে নিলে আর্থিক ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।
৫. সোশ্যাল ইনস্যুরেন্স নম্বর (SIN) সংগ্রহ করা
কানাডায় পড়াশোনার পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ করতে চাইলে সোশ্যাল ইনস্যুরেন্স নম্বর (SIN) প্রয়োজন হয়। পার্ট-টাইম চাকরি, কো-অপ প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ ও ট্যাক্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য এই নম্বর বাধ্যতামূলক।
কানাডায় পৌঁছানোর পর যত দ্রুত সম্ভব SIN-এর জন্য আবেদন করা ভালো। সাধারণত পাসপোর্ট ও স্টাডি পারমিট দেখিয়ে এটি সংগ্রহ করা যায়।
৬. স্বাস্থ্যবিমা সম্পর্কে জানা
কানাডায় চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি, তাই স্বাস্থ্যবিমা থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রদেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি বিমা থাকতে পারে।
কোন চিকিৎসা সুবিধা কাভার করে তা শুরুতেই জেনে নেওয়া এবং নিকটবর্তী হাসপাতাল ও ক্লিনিক চিহ্নিত করে রাখা নিরাপদ।
৭. গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা
নতুন শহরে চলাফেরা সহজ করতে স্থানীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি। বাস, ট্রেন, সাবওয়ে বা লাইট রেল, যে ব্যবস্থাই থাকুক না কেন, প্রথম সপ্তাহেই রুট ও ভাড়ার নিয়ম বুঝে নেওয়া সুবিধাজনক।
অনেক শহরে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় বা ডিসকাউন্ট পাসের সুবিধা থাকে। নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এসব সুবিধা সম্পর্কে জানা খরচ কমাতে সাহায্য করে।
৮. ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা ও রুটিন তৈরি
ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই ক্যাম্পাস সম্পর্কে ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। লাইব্রেরি, ক্লাসরুম, ক্যাফেটেরিয়া ও স্টুডেন্ট সার্ভিস সেন্টার খুঁজে দেখা ভালো।
এছাড়া স্টুডেন্ট আইডি কার্ড সংগ্রহ, স্টাডি ম্যাটেরিয়াল কেনা এবং একটি সাপ্তাহিক রুটিন তৈরি করলে পড়াশোনা ও জীবন আরও সুসংগঠিত হয়।
৯. স্থানীয় মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া
প্রথম সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করা মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে। ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া, সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও স্টুডেন্ট গ্রুপে যুক্ত হওয়া উপকারী।
কানাডার সংস্কৃতি সাধারণত ভদ্র ও সহযোগিতামূলক। তাই প্রশ্ন করতে বা সাহায্য চাইতে দ্বিধা না করাই ভালো।
১০. বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা সেবাগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়া
কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের সহায়তা সেবা প্রদান করে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাকাডেমিক পরামর্শ, ক্যারিয়ার গাইডেন্স, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, রাইটিং সাপোর্ট ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা কেন্দ্র।