Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

১৮০০ টাকা বাঁচাতে ট্রাকে উঠেছিল ৯ বন্ধু, দুর্ঘটনায় হারালেন প্রাণ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

১৮০০ টাকা বাঁচাতে ট্রাকে উঠেছিল ৯ বন্ধু, দুর্ঘটনায় হারালেন প্রাণ

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নোয়াখালী থেকে নওগাঁয় ফিরছিলেন একই এলাকার ৯ বন্ধু। বাসভাড়া ১৮০০ টাকা বেশি হওয়ায় উঠেছিলেন ট্রাকে। কিন্তু সেই সাশ্রয়ী শেষ হলো তাদের জীবন। 

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে এক ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৫টি প্রাণ, যার মধ্যে রয়েছেন সেই ৯ বন্ধু। নওগাঁর মান্দা উপজেলার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা আর শোকের ছায়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব দিকে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই রডবোঝাই ট্রাকটি উল্টে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে মোট ১৫ জন নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১ নম্বর ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা হলেন মো. সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মো. আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল বারেক, মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মো. সোহাগ, মো. শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর।

এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াসও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বেচাকেনা করতো। ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই একসঙ্গে বাড়ি আসছিলেন। বাসে ১৮০০ টাকা ভাড়া বেশি চাচ্ছিল, তাই একটু টাকা বাঁচাতে সবাই মিলে ট্রাকে উঠে। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এই সামান্য টাকার জন্য তাদের সব শেষ হয়ে গেল।

একই ইউনিয়নের ৯ যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো মান্দা উপজেলায় কান্নার রোল পড়েছে। নিহতদের পরিবারে চলছে চরম আহাজারি। উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনেরা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার