বিজ্ঞাপন
বিএটি বাংলাদেশের ২৪ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন নাকচ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৩:৪২ এএম
বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ এর ২৪ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৮ টাকার প্রত্যর্পণ আবেদন নাকচ করে দিয়েছে শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তর (ডেডো)। ১৪টি প্রত্যর্পণের প্রথম আবেদন নাকচ করার পর পুনরায় নতুন সাতটিসহ ২১টির আবেদন করা হয়। দ্বিতীয় আবেদনেও আগের ১৪টি আবেদন নাকচ করা হয়।
নতুন সাতটি আবেদন সরেজমিন খতিয়ে দেখার জন্য কমিটি করা হয়। পরে কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে নতুন সাতটি আবেদনও নাকচ করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশকাল নিউজকে বলেন, “রপ্তানির ৬ মাসের মধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করতে হয়। কাঁচামাল আমদানিকালে পরিশোধিত শুল্ক পরে পণ্য রপ্তানিকালে প্রত্যর্পণ (ফেরত) করা হয়। রপ্তানির আগেই ডেডোতে সহগ (ইনপুট, আউটপুট ও কো-এফিশিয়েন্ট) দাখিল করতে হয়। সহগ হলো প্রতি ইউনিট পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল ও অপচয়ের হিসাব।”
ডেডোর পরিস্থিতি পত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোট ১৪টি প্রত্যর্পণ আবেদন দাখিল করে বিএটি। যাচাই-বাচাইয়ের পর শুল্ক প্রত্যর্পণ বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী আবেদনগুলো মঞ্জুরযোগ্য হয়নি। শুল্ক প্রত্যর্পণ বিধিমালা, ২০২১ এর ৬(১) অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনকালীন সহগ ঘোষণার আবেদন করে সহগ পাওয়ার পর প্রত্যর্পণের আবেদন করতে হয়। কিন্তু, বিএটি কোনো ধরনের সহগ ঘোষণা ছাড়াই প্রত্যর্পণ আবেদন করে। সে কারণে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, ১ অক্টোবর, ২৮ অক্টোবর এবং ২০২৫ সালের ৮ জুলাই ও ৪ জুন তারিখের প্রত্যর্পণ আবেদনগুলো নাকচ করে দেন শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তর মহাপরিচালক।
পরে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর পুনর্বিবেচনার জন্য বিএটি পুনরায় আবেদন করে। ১৪টি আবেদনে প্রত্যর্পণের পরিমাণ ১৪ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৮১৭ টাকা। ৩ ডিসেম্বর পুনরায় আবেদনগুলো নাকচ করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, ১৪টি প্রত্যর্পণ আবেদনের মধ্যে ৫, ৭ ও ৯ নম্বর প্রত্যর্পণ আবেদন রপ্তানির ৬ মাসের মধ্যে দাখিল করা হয়নি। ১৪টি আবেদনের কোনোটির ক্ষেত্রেই রপ্তানির আগে সহগ ঘোষণা করা হয়নি।
২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর আরো সাতটি প্রত্যর্পণ আবেদন করে বিএটি। এগুলোতে টাকার পরিমাণ ৮ কোটি ২৬ লাখ ৩২ হাজার ১৩২ টাকা। সরজমিন পরিদর্শনের জন্য জরিপ কমিটি করা হয়।
১৪ ডিসেম্বর ডেডোর কর্মকর্তারা পরিদর্শনকালে রপ্তানি করা পাঁচটি পণ্যের নমুনা, সংশ্লিষ্ট দলিলাদি ও পাঁচটি পণ্যের (Lord Red, Pall KS, Cut Rag Tobacco) বা সমজাতীয় পণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম দেখাতে পারেনি বিএটি। পরে ডেডোর মহাপরিচালক বিএটির প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করেন। বিএটিকে তাদের পাঁচটি পণ্যের রপ্তানির আগের উৎপাদনকালীন তাদের অফিসে ব্যবহৃত ইআরপি সিস্টেম থেকে উৎপাদন ও ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) দাখিল করা মূসক-৪.৩ ডেডোতে জমা দিতে বলা হয়।
বিএটি এলটিইউতে দাখিল করা মূসক-৪.৩ ডেডোর কাছে জমা দিলেও ইআরপি সিস্টেমের কোনো তথ্য জমা দিতে পারেনি। এই কারণে রপ্তানি করা পণ্যের উৎপাদনে ব্যবহৃত অপচয়সহ কাঁচামালের মোট (গ্রস) পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণে প্রত্যর্পণ দেওয়াও সম্ভব হয়নি। এই সাতটি আবেদনও নাকচ করা হয়।
নতুন সাতটি আবেদনের উৎপাদন উপাদান পাওয়া যায়নি। ইআরপি ডাটা দাখিল করতে পারেনি বিএটি।
এ বিষয়ে জানতে বিএটির জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানকে বুধবার জানানো হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফের যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।