বিজ্ঞাপন
রামিসা হত্যা : ডিএনএ রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ, প্রস্তুত চার্জশিট
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০১:৩০ এএম
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। সিআইডি’র পক্ষ থেকে সেই ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট শনিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে তুলে দেয়া হয়। ডিএনএ টেস্টের তথ্য অনুযায়ী হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। একইসঙ্গে মামলাটির চূড়ান্ত তদন্তকাজও সম্পন্ন হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোমহর্ষক এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই মো. অহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমাদের একাধিক টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে। এই কয়েকদিন দিনে-রাতে কাজ করেছি আমরা। প্রথমে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর সিআইডি’র সহায়তায় ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন করা হয়। এই ডিএনএ টেস্টের ওপরই আমাদের সবকিছু নির্ভর করছিল। টেস্টের রিপোর্ট সঠিক সময়ে পাবো কিনা, তা নিয়েও খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম আমরা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেটাও সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। সবকিছু প্রস্তুত। আশা করছি রোববারই আমরা এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিতে পারবো।
‘ডিএনএ টেস্টে কি রেজাল্ট এসেছে, ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া গিয়েছে কিনা?’- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ। ডিএনএ টেস্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আর হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য তার শরীর থেকে মাথা কেটে আলাদা করে ফেলে ঘাতক সোহেল। এরপর রামিসার দুই হাতও কাটা হয়। বুক চিরে ফেলা হয়। আমরা সবকিছুই চার্জশিটে উল্লেখ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এখন বাকি কাজ আদালতের। আশা করি সবকিছু মাথায় রেখে যাচাই বাছাই শেষে নির্দেশ দিবেন।
এদিকে রামিসা হত্যা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা গত বুধবার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সেদিন ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও রামিসার প্রতিবেশী মো. সাইফুল বলেন, রামিসারা যেই বাসায় থাকে সেই বাসার কেয়ারটেকার মনিরের অটোরিকশার গ্যারেজ আছে ওই বাসার নিচেই। সেখানেই কাজ করতো ঘাতক সোহেল। মনিরই তাকে কাজে নিয়েছিল এবং ওই বাসায় সোহেলকে ভাড়াও দিয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ দেখি সোহেল একবার গ্যারেজে একবার বাসায় যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর দেখি গ্যারেজের মধ্যে একটা বড় ছুরি ধার দিচ্ছে সে। ধার দিতে দিতে ছুরিটা দেখি সাদা করে ফেলেছে। এরপর অটোরিকশার ব্যাটারির চারটা বক্স (কাগজের প্যাকেট) নিয়ে আবার বাসার উপরে যাচ্ছে। এর মধ্যেই চিল্লাচিল্লি। রামিসার মা নিচে এসে আমাদের ডাক দিলো। আমরা সকলে শাবল নিয়ে বাসার তিনতলায় গেলাম। রামিসার বাবাও আসলো। আরও অনেকে ছিল। বারবার ধাক্কা-ধাক্কির পরও কেউ দরজা খোলেনি।
এরপর দরজার লক আমরা ভেঙে ফেলি। কিন্তু ভেতর থেকে ছিটকিনি মারা থাকায় দরজা খুলতে পারিনি। ভাঙা লকের ছিদ্র দিয়ে দেখি সোজাসুজি বাথরুমের ভেতর শুধু রক্ত আর পানি। আর ভেতর দিয়ে সোহেলের বউ হাঁটাহাঁটি করছে। এরপর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ চলে আসে। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখি শোয়ার রুমের খাটের নিচে রামিসার পা দেখা যাচ্ছে। পা ধরে টান দিলেই বেরিয়ে আসে মাথাবিহীন রামিসার লাশ। ওই অবস্থা আমরা কেউই কল্পনাও করতে পারিনি। অনেকেই তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর বাথরুমের ভেতর গিয়ে দেখি রামিসার কাটা মাথা। আমরা এই খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। ওকে ফাঁসি দিলেও মনে শান্তি আসবে না।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের এভিনিউ-৭ এর ৩৭ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ওই বাসার বাথরুমের ভেতরে থাকা বালতির মধ্য থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেল ধর্ষণের পর রামিসাকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।