বিজ্ঞাপন
একের পর এক সমকামি জুটি ধরা হাবিপ্রবিতে, ঘটনা কী
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০১:১০ এএম
বিজ্ঞাপন
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে একের পর এক সমকামিতার অভিযোগে শিক্ষার্থী আটক ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, গত (শনিবার) ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হ্যাভেন সিটি ছাত্রাবাসে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ফিশারিজ অনুষদ ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের চার শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, তাদের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং অর্ডিন্যান্স অব স্টুডেন্টস ডিসিপ্লিনের ১৫ ধারা অনুযায়ী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম এমদাদুল হাসান জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সমকামিতায় জড়িতদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একই এলাকায় একটি মেস থেকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এরপর সবশেষ মঙ্গলবার (১৯ মে) ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহাবলিপুর এলাকায় আরও দুই শিক্ষার্থীকে সমকামিতার অভিযোগে আটক করেছে প্রশাসন।
এদিকে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিব্রতকর পোস্ট, মিমস আর মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলেই।
স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা চাই ক্যাম্পাসে সুস্থ সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় থাকুক। এ ধরনের ঘটনা আমাদের ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অন্যদিকে, অভিভাবকরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সমকামিতা ইসলামে হারাম। সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হওয়া আমাদের জন্য গভীর চিন্তার বিষয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. নওশের ওয়ান বলেন, আমরা এই সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যেই অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।