Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসছে বড় পরিবর্তন

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০১:৫৭ এএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসছে বড় পরিবর্তন

বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো চলতি বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার থাকছে না। এ ছাড়া অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধান বাতিল এবং ইভিএম না রাখাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে, এর মধ্যে একটি হলো এই নির্বাচনে পোস্টার থাকবে না। আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন পোস্টার না রাখার পক্ষে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’

গুরুত্বপূর্ণ যত বিষয়ে পরিবর্তন

তিনি জানান, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধান বাতিল করা হবে। একইভাবে ইভিএম ব্যবহারের নিয়মও থাকছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।

বর্তমানে নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য সমর্থন হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও বাতিল করা হচ্ছে বলে জানান আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্য সব স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে কী পরিমাণ বাড়বে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’

জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। একই সঙ্গে ফেরারি আসামিরাও প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ, সুন্দর ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।’

ঈদুল আজহার পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুন মাসের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ হবে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। ঈদের আগে আরেকটি বৈঠক করা গেলে খসড়া বিধিমালা কমিশনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু হতে পারে। কমিশন আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে পারবে বলে আশা করছে।

চার বিষয়ে গুরুত্ব

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার—প্রথমত, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি। সরকার কী চায় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সরকারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি। তারা কী চায়? তারা কি মারামারি-হানাহানির পথে যাবে, নাকি দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করবে? নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সংঘর্ষ নয়।

তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব। ইসি নিরপেক্ষ থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও ইসির নিজস্ব কোনো শক্তি নেই; তবু নীতি ও দৃঢ়তার জায়গা থেকে ‘হুংকার’ দিতে হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠু থাকে।

চতুর্থত, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের আচরণ। লাখ লাখ মানুষ নির্বাচনি দায়িত্বে থাকেন। প্রিসাইডিং অফিসার যদি আন্তরিকভাবে বলেন যে জাল ভোট আমি করতে দেব না, বা দুই নম্বর কাজ হবে না, তাহলে তা তার সততা, ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর নির্ভর করে।

সহিংসতাহীন ও সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এ জন্য সরকারের শতভাগ সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সমর্থন প্রয়োজন। সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সরকারের স্বার্থেই নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত।

সহিংসতা মূলত আইনশৃঙ্খলার বিষয়, কেউ সংঘর্ষ সৃষ্টি করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোরও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।

তার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বাস্তবে প্রার্থীরা রাজনৈতিক সমর্থন পেয়ে থাকেন। কোনো দলের সমর্থিত প্রার্থী মাঠে নামলে অন্য পক্ষ থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়ায়। এ অবস্থায় দলগুলোর মধ্যে নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি না থাকলে এবং তারা নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।

ইসির সতর্কতা

তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোকে দলগতভাবে অনুরোধ জানানো হবে, যাতে তারা নির্বাচনি পরিবেশ উত্তপ্ত না করে, মারামারি, ভাঙচুর, ধাক্কাধাক্কি বা লাঠালাঠি থেকে বিরত থাকে। দলবাজি বা উত্তেজনা তৈরির প্রচেষ্টা না চালায়।

‘সহযোগিতা না করলে আমরা কী করব? খেলোয়াড় যদি সারা দিন ফাউল করে, রেফারি কয়টা ফাউল ধরবে?’ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুটি রাজনৈতিক জোট আচরণবিধি মেনে চলেছে। ভোটের দিন বড় কোনো ঝামেলা, কেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা খুব কম হয়েছে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।’

তিনি জানান, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং স্টাফরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভেজাল ধরা পড়লে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ভোটকেন্দ্র বন্ধ করার ক্ষমতা; আইন ও বিধিমালায় রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার