বিজ্ঞাপন
পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভায় দীর্ঘ আলোচনা, কমতে পারে বৈষম্য
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল (বেতন কাঠামো) বাস্তবায়নের বিষয়ে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শুরু হওয়া এই বৈঠক দুপুরের দিকে শেষ হয়। বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এই স্তরের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে কমিটির মধ্যে মতৈক্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম) মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ গ্রেডের (১ম) মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।
পেনশন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব বিবেচনায় রেখেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় তা তিন ধাপে বা তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে পৃথক দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার ছাড়াও শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ সব সরকারি চাকরিজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়েও নির্দেশনা থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে গত সোমবার (১৮ মে) নিজ কার্যালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হলেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন এই কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।