Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ওবায়দুল করিমকে দেশি ও ডোমিনিকার পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৪:১১ এএম

ওবায়দুল করিমকে দেশি ও ডোমিনিকার পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ

বিজ্ঞাপন

বিদেশ যাওয়া বন্ধ হলো ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী আরজুদা করিমের। বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তাদের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। শুধু আবেদন খারিজই নয়, তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও ডোমিনিকার (কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকা) পাসপোর্টসহ সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দিতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশও বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

গত ১৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একই ধরনের আবেদন করেছিলেন ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী। সেদিন শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ।

এর আগে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে মার্চ মাসে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তারা।

গত ৫ মার্চ আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাদের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার আদেশ দেন হাইকোর্ট। মূলত সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন (ক্রিমিনাল পিটিশন নম্বর ১০৮৯/২০২৬) করেন ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সেই আবেদনটি খারিজ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ।

বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। দুদকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মাহমুদুল আরেফিন স্বপন। ওবায়দুল করিমের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মধুমালতী চৌধুরী বড়ুয়া। 

গত বছর ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। পরবর্তী সময়ে ওমরা হজ পালন ও চিকিৎসার কথা বিবেচনায় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিদেশে ৩০ দিন অবস্থানের মেয়াদ বেঁধে দিয়ে অনুমতি দেন আদালত। তবে এই অনুমতি পেয়ে কালবিলম্ব না করেই বাংলাদেশি পাসপোর্টের পরিবর্তে কৌশলে ডোমিনিকার পাসপোর্ট (ভিসামুক্ত বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল অ্যাক্সেস) ব্যবহার করে দেশ ছাড়েন ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পারমিশন কেস এবং ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রীর আবেদনের সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করা হলেও বিষয়টি পাশ কাটিয়ে ডোমিনিকার পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে সব মহলে সমালোচনা হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সব পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দুদকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন। 

অর্থ পাচার, আত্মসাৎ, প্রতারণা, জালিয়াতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকা মহানগরের বিশেষ জজ আদালত। পরে তার চিকিৎসা ও ওমরাহ হজ পালনের জন্য এবং অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে স্ত্রী আরজুদা করিম ও মেয়ে জারিন করিমের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। শুনানি শেষে ওই বছরের ১৬ মার্চ এক আদেশে ওবায়দুল করিম ও আরজুদা করিমকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেন ঢাকা মহানগরের বিশেষ জজ আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

ওই বছরের ১৮ মার্চ শুনানি শেষে ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী আরজুদা করিমের বিদেশ গমনের অনুমতির আদেশ ২১ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালতের ১৬ মার্চের আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এদিকে হাইকোর্টের এই স্থগিতের মেয়াদ শেষে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে ফের বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করেন ওবায়দুল করিম ও স্ত্রী। শুনানি শেষে ওই বছরের ৩০ জুলাই আবেদনটি মঞ্জুর করেন ওই আদালত। এ আদেশের পর ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী বিলম্ব না করে কৌশলে ডোমিনিকান পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছাড়েন। পরে বিশেষ জজ আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী বিদেশ চলে যাওয়ার ১০ দিন পর ১০ আগস্ট শুনানি শেষে বিদেশ গমনে বিশেষ জজ আদালতের ৩০ জুলাইয়ে দেওয়া অনুমতির আদেশটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিশেষ জজ আদালতের ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের বেঞ্চ।

৫০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা

ঋণের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম, তার স্ত্রী আরজুদা করিম ও ছেলে সালমান ওবায়দুর করিমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারি মাসে মামলা করে দুদক।

মামলায় অপর ১০ আসামি হলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক গাউস-উল-ওয়ারা মোর্তজা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রেডিট ইনচার্জ (বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সেন্ট্রালাইজড অপারেশনের হেড অব ডিভিশন) প্রতাপ কুমার দেশমুখ্য, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার অপারেশন (বর্তমানে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট) অলিউল্লাহ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার (বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মতিউল হাসান, ব্যাংকের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমানে ক্রেডিট ডিভিশনে কর্মরত) আব্দুল কাদের, সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমানে প্রধান শাখার ক্রেডিট ইনচার্জ) বাবর আলী মোল্লা, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রেডিট ইনচার্জ ইকরামুল ইসলাম খান, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক (বর্তমানে চিফ অপারেটিং অফিসার) আব্দুল হালিম এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফরেন ট্রেড ইনচার্জ (বর্তমানে প্রধান শাখার ম্যানেজার অপারেশন) আতিকুর রহমান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে অপর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ঋণ লেনদেন করেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং আইন লঙ্ঘন করে ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে নেওয়া বৈদেশিক মুদ্রার দুটি মেয়াদি ঋণকে ডমিস্টিক ব্যাংকিং ইউনিটের আওতায় এনে দেশীয় মুদ্রায় নতুন দুটি মেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা হয়। পরে শ্রেণিকরণযোগ্য ঋণের দায় পরিশোধের নামে নতুন ঋণ সৃষ্টি করে ওই ঋণের মেয়াদ আরও সাত বছর বাড়ানো হয়। এভাবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে অযৌক্তিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ঋণের ডাউন পেমেন্ট পরিশোধ না হওয়া সত্ত্বেও পুনঃতফসিলীকরণের মাধ্যমে প্রায় ৫০৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আসামিরা ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। 

ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুদকের কয়েকটি অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ৫০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানে গত বছর দুদকের উপপরিচালক রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমের অপর সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও খোরশেদ আলম।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার