Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

নতুন পে-স্কেলে যা যা কাটছাঁট করল সচিব কমিটি

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৩৮ এএম

নতুন পে-স্কেলে যা যা কাটছাঁট করল সচিব কমিটি

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় রেখে একযোগে নয়, এই পে-স্কেল মাঠপর্যায়ে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি নীতিগত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। 

অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র মতে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে বলে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিকে, আসন্ন জাতীয় বাজেটে এর প্রয়োজনীয় প্রতিফলন নিশ্চিত করতে বাজেট ঘোষণার আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। 

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই পে-স্কেল প্রণয়ন, কাটছাঁট এবং সম্ভাব্য বাস্তবায়নের পেছনের নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকে বিগত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই এখন সংসার চালাতে ব্যাংক ঋণ ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক ব্যতিক্রমধর্মী মৌন মিছিল ও প্রতিনিধি সমাবেশ করে তাদের দাবি তুলে ধরেন। সংগঠনটির দাবি, বাজেট প্রণয়নের আগেই সচিব পর্যায়ের সুপারিশ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে নতুন অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা সহজ হবে, অন্যথায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে চাকরিজীবীদের মনোবল আরও ভেঙে পড়তে পারে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত মূল কাঠামোটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ,৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের জোগান দেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের একটি কৌশলগত খসড়া তৈরি করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু চূড়ান্ত হলে প্রথম ধাপে নতুন বেসিকের ৫০ শতাংশ কার্যকর হতে পারে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বেসিক এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের বিদ্যমান ১০ শতাংশ মহার্ঘভাতা সমন্বয়ের পর কমিশনের হিসাবে এই ব্যয় প্রথমে ৪৩ হাজার কোটি এবং পরবর্তীতে কাটছাঁটের মাধ্যমে সরকারের প্রকৃত অতিরিক্ত ব্যয় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। 

জানা গেছে, কমিশন মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। যেখানে ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ ছিল। তবে পরবর্তীতে গঠিত 'সচিব কমিটি' এই সুপারিশের বড় একটি অংশ কাটছাঁট করে। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কিছু সুবিধা এবং কুক-মালি-গাড়ি সংক্রান্ত ভাতা অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়ে সামগ্রিক বাস্তবায়ন ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি করা এই প্রতিবেদনে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোতে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে ১১তম থেকে ২০তম ধাপে তুলনামূলক বেশি হারে সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। পেনশন ও ভাতার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে; যেখানে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক পুনর্মূল্যায়নের কারণে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও, তারা তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনা করে আগামী ১ জুলাই থেকে এটি আংশিক বাস্তবায়নের একটি প্রাথমিক প্রস্তুতি নিলেও চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো বাকি। একই সঙ্গে সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করার কাজও সমানতালে এগিয়ে চলছে। অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার