বিজ্ঞাপন
৫২ কোটি টাকার স্টেশনে ট্রেন থামে মাত্র একটি
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাজীপুরের হাইটেক পার্ক রেলওয়ে স্টেশন এখন কার্যত অচল ও প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন এই রুট দিয়ে প্রায় ২০ জোড়া, অর্থাৎ ৪০টি ট্রেন চলাচল করলেও স্টেশনটিতে যাত্রাবিরতি দেয় মাত্র একটি লোকাল ট্রেন।
ফলে আশপাশ এলাকার হাজারও মানুষ প্রত্যাশিত যোগাযোগসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত এই স্টেশনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে এবং শেষ হয় ২০১৮ সালে। ৫২ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করে এই স্টেশন নির্মাণ করা হয়। একই বছরের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেশনটি উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক ডিজাইন এবং উন্নত অবকাঠামোর কারণে এটিকে দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন রেলস্টেশন হিসেবে ধরা হয়।
সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে স্টেশনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবে বিশাল এই স্টেশনটি প্রায় সারাদিনই ফাঁকা পড়ে থাকে। প্রতিদিন মাত্র একটি লোকাল ট্রেন থামায়; এখানে টিকিট বরাদ্দ থাকে মাত্র ৭০ থেকে ৮০টি। যাত্রী সংকটের কারণে স্টেশনের ভিআইপি অংশের কার্যক্রমও বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
স্টেশনটির পাশেই রয়েছে বাংলাদেশ হাইটেক সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশ; কিন্তু শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের জন্যও এই স্টেশনটি কার্যত কোনো সুবিধা দিচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজওয়ান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে এত সুন্দর একটি রেলস্টেশন থাকা সত্ত্বেও আমাদের বাসে যাতায়াত করতে হয়। কারণ এখানে কোনো আন্তঃনগর ট্রেন থামে না।
ফখরুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, বর্তমানে শুধু সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি এই স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়।
আধুনিক অবকাঠামো, একক প্ল্যাটফর্ম, লুপ লাইন ও উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যাত্রী না থাকায় স্টেশনটি অধিকাংশ সময় জনশূন্য থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব চাহিদা যাচাই না করেই বিপুল অর্থ ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে স্টেশনটি এখন মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আড্ডাখানায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা জিআরপি পুলিশের উপস্থিতিও নেই। ইতোমধ্যে স্টেশনের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ প্রতি মাসে এই স্টেশন পরিচালনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। অথচ যাত্রী না থাকায় কোনো উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হচ্ছে না। ফলে এটি এখন লোকসানি প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
স্টেশন সহকারী মাস্টার খায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দৃষ্টিনন্দন এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ৪০টি ট্রেন চলাচল করলেও থামে মাত্র একটি। ট্রেন না থামায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয়রা আশা করেছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মজিবুর রহমান বিষয়টি সমাধান করবেন, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন, এ স্টেশন দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার পর্যাপ্ত যাত্রী রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে রেল বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে।