বিজ্ঞাপন
নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত, যা জানা গেল
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
বিজ্ঞাপন
দেশের সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ আসছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকুরেদের বেতন বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। যদিও বেতন বৃদ্ধির এই বড় পরিবর্তনের মাঝেও বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে বেতনের ব্যবধান বা অনুপাত কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আগে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:৯.৪, যা নতুন প্রস্তাবে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য প্রচলিত ২০টি ধাপের বাইরে আলাদা বিশেষ ধাপ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে।
বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও পৃথক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তিনটি প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তা বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই মূলত তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশ করবে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ধাপে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এই ৫০ শতাংশ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী হবে না। কমিশন মূল বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছে সেটির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ করার পর যে অর্থ হয়, সেই অর্থের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সূত্রটি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি যে সুপারিশ করেছে, সেই সুপারিশের আলোকে আমরা কাজ করছি। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। নবম পে-স্কেল প্রণয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন। এজন্য মূল বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের পেছনে সরকারের বর্তমান বাৎসরিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের নতুন এই সুপারিশগুলো কার্যকর করতে হলে সরকারকে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। এই বিশাল অংকের বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি মাথায় রেখেই তিন ধাপে বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।