বিজ্ঞাপন
লটারির মতো হলেও নিরাপদ বিনিয়োগ, কেন কিনবেন প্রাইজবন্ড
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ১২:২২ পিএম
বিজ্ঞাপন
প্রাইজবন্ড অনেকের কাছে লটারির মতো মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি নিরাপদ সঞ্চয়মাধ্যম, যেখানে মূল টাকা হারানোর ঝুঁকি নেই। বরং এটি সরকারের কাছে জনগণের এক ধরনের ঋণ, যা যে কোনো সময় ফেরত পাওয়া যায়।
লটারি নয়, কেন ভিন্ন প্রাইজবন্ড
লটারিতে একবার ড্র হয়ে গেলে টিকিটের আর কোনো মূল্য থাকে না। জিততে না পারলে পুরো টাকাই হারাতে হয়। কিন্তু প্রাইজবন্ডের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই আলাদা।
একবার ড্র হয়ে গেলেও প্রাইজবন্ডের মেয়াদ শেষ হয় না। এটি পরবর্তী সব ড্রতেই অংশ নিতে পারে। অর্থাৎ একই বন্ড দিয়ে বারবার জয়ের সুযোগ থাকে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো প্রাইজবন্ডের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। এটি আজীবন বৈধ এবং চাইলে যে কোনো সময় নগদায়ন করা যায়। ফলে মূল অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।
সুদ নেই, কিন্তু আছে সুযোগ
প্রাইজবন্ডে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ দেওয়া হয় না। তবে নির্দিষ্ট সময় পরপর ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকে। প্রতিবছর চারবার— ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর ড্র অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত দিন ছুটি হলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র হয়। পুরস্কার জিতলে ২ বছরের মধ্যে দাবি করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে সেই পুরস্কার বাতিল হয়ে যায়।
কেন কিনবেন প্রাইজবন্ড
প্রাইজবন্ড কেনার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে— টাকা হারানোর ঝুঁকি নেই, একই বন্ড বহুবার ড্রতে অংশ নেয়, যে কোনো সময় ভাঙানো যায়, উপহার হিসেবে বিয়ে, জন্মদিন বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে দেওয়া যায় এবং এটি সরকারের সরাসরি দায়।
নগদ অর্থ উপহার দেওয়ার পরিবর্তে প্রাইজবন্ড একটি মার্জিত ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
কোথা থেকে কিনবেন ও ভাঙাবেন
প্রাইজবন্ড কেনা ও ভাঙানো বেশ সহজ। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এটি করা যায়— বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিকাংশ কার্যালয়, তফসিলি ব্যাংক (শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ছাড়া), সঞ্চয় ব্যুরো অফিস ও ডাকঘর। কোনো আবেদন ছাড়াই সরাসরি নগদ অর্থ দিয়ে প্রাইজবন্ড কেনা যায়।
পুরস্কার দাবি করার নিয়মপ্রাইজবন্ডে পুরস্কার জিতলে নির্ধারিত পিবি-২৩ ফরম পূরণ করে মূল বন্ডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অফিসে জমা দিতে হয়। সাধারণত ২ মাসের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
কর সংক্রান্ত তথ্যআয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের ওপর ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, প্রাইজবন্ড এমন একটি বিনিয়োগ মাধ্যম যেখানে ঝুঁকি কম, মূলধন নিরাপদ এবং ভাগ্য সহায় হলে বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের সুযোগ রয়েছে। তাই নিরাপদ সঞ্চয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য লাভের কথা বিবেচনায় অনেকেই প্রাইজবন্ডকে বেছে নিচ্ছেন।