Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে: আসছে নতুন অনলাইন ব্যবস্থা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে: আসছে নতুন অনলাইন ব্যবস্থা

বিজ্ঞাপন

এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। সঞ্চয়পত্র কেনা আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যবস্থায় ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) যুক্ত করা হচ্ছে জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে, পাশাপাশি অর্থ পরিশোধ করা যাবে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে। সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন প্রবাসীরাও।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বিশেষ নজর দিতে যাচ্ছে সরকার। এ পদ্ধতি কার্যকর হলে অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ হবে, প্রতারণার ঝুঁকি কমবে এবং গ্রাহকের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়ে উৎসাহিতকরণ ও আস্থায় নিয়ে আসতে স্কিমটিকে দ্রুত অটোমেশনের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার এক সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটি সম্পূর্ণরূপে অটোমেশন করা সরকারের উদ্দেশ্য। শুধু তাই নয়, সেলফ সার্ভিস মডিউলের মাধ্যমে ঘরে বসে একজন গ্রাহক যেন তার সঞ্চয়পত্র নিজেই কিনতে পারেন, সেলক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এতে গ্রাহকসেবা সহজ হওয়ার পাশাপাশি তার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

এদিকে গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ জালিয়াতির ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উৎস হিসাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের এক সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা জানান, ইতোমধ্যে আইবাস (iBAS++) সিস্টেমে হিসাব যাচাইকরণ সিস্টেম (এভিএস) ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। তাদের মতে, এ পদ্ধতিতে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর যাচাই করা হবে, অ্যাকাউন্টের মালিকানা নিশ্চিত করা যাবে, ভুল বা ভুয়া তথ্য দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ হবে। বর্তমানে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১০ মিনিট সময় লাগে। ভবিষ্যতে এটি রিয়েল টাইমে করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল আর্থিক সেবায় বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের যাচাইকরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ডিজিটাল যাচাইকরণ ছাড়া অনলাইন আর্থিক সেবা নিরাপদ করা সম্ভব নয়। এভিএস চালু হলে প্রতারণা অনেকটাই কমে আসবে এবং গ্রাহকের আস্থা বাড়বে। তিনি বলেন, সরকার একদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করছে, অন্যদিকে সুদের চাপ কমাতে বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা বাড়ানো খুবই জরুরি।

চেকের মাধ্যমে কেনায় অনিয়মের সুযোগ কমবে বর্তমানে চেকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একটি বড় ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে চেকটি অনার হওয়ার আগেই সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশ ঘরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে, চেক ক্লিয়ার (ছাড়) না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র ইস্যু বন্ধ রাখা হবে। এতে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরের মধ্যে জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটি অটোমেশন করার নির্দেশনা রয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা পাওয়া যাবে। কাউকে আর ব্যাংকে এসে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এছাড়া কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অর্থ চুরির সুযোগ বন্ধ হবে।

যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে: স্কিমটিকে দ্রুত অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়নে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, প্রযুক্তিগত জটিলতা, রিয়েল টাইম ভেরিফিকেশন বাস্তবায়ন, গ্রাহকের ডিজিটাল দক্ষতা বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ ইন্টারফেস তৈরি বড় একটি বিষয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার