বিজ্ঞাপন
সংরক্ষিত নারী আসন
শরিক দল থেকে বিএনপি মনোনয়ন পেতে আলোচনায় যারা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে শরিক দলগুলোর বেশ কয়েকজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমমনা দলগুলোর তিন থেকে চারজন নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন পেতে পারেন। আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, সমমনা জোটের যারা নির্বাচনে অংশ নিলেও জিততে পারেননি, কিংবা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থেকেও মনোনয়ন পাননি—এমন ত্যাগী নেতাদের সহধর্মিণী ও মেয়েকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। সেক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবদান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির জোট পাবে ৩৬ আসন, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবেন।
শরিক দলগুলো থেকে আলোচনায় যারা
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে শরিক দলগুলো থেকে প্রায় ৮ জন আলোচনায় রয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব। তিনি দলটির সিনিয়র সহ-সভাপতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তানিয়া রব।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার স্ত্রী মেহের নিগারও আলোচনায় রয়েছেন। সদ্য গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে পদত্যাগ করা জোনায়েদ সাকির স্ত্রী তসলিমা নাসরিনও আছেন আলোচনায়।
এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় পরিষদের সদস্য আরিফুল ইসলামের স্ত্রী রেবাকা নীল আলোচনায় আছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের মেয়ে মোশরেকা অদিতি হকের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
১২ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) থেকে কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজীর নাম উঠে এসেছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির নেতা এহসান হুদার স্ত্রী রোকসানা শারমিনও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।
অন্যদিকে সমমনা জোট থেকে ফরিদুজ্জামান ফরহাদের স্ত্রীর নামও বিবেচনায় রয়েছে।
মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু
ইতিমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন বিতরণ শুরু করেছে বিএনপি। এক হাজারের বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে যুগপৎ শরিকদের মধ্যে যাদের বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক রয়েছে, তাদের অধিকাংশ বিএনপি থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি বলে জানিয়েছে সূত্র।
দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ না করলেও শরিকদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে সংসদে পাঠানো হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্যের বিষয়ে আলোচনা চলছে। 'দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।'
মনোনয়ন ফরম বিতারণ ও সমমনা জোটকে কতগুলো আসন দেওয়া হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরের তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দলীয় ফোরামে এখনো আলোচনা হয়নি। বিএনপির পার্লামেন্টরি বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্দান্ত নেবে।
ত্যাগীরা অগ্রাধিকার পাবেন
সংরক্ষিত নারী আসনে রাজপথের ত্যাগীরা অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি, নারীরা আসুক। যত দ্রুত আসে, তত লাভ। আমরা ফ্যামিলি কার্ড করেছি নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য। যত দ্রুত সম্ভব, আমরা তাদের সংসদে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।'
তিনি আরও বলেন, যারা রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাদের বিবেচনায় রাখা হবে। রাজপথে ত্যাগী নেতা এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে সক্ষমদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
১০ এপ্রিল থেকে সংরক্ষিত আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করেছে বিএনপি। মোট ১ হাজার ১৯৪ জন নারী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে তথ্য পূরণ করে ফরম জমা দিয়েছেন ৯০৭ জন। বাকি ২৮৭ জন এখনও ফরম জমা দেননি।
আজ থেকে সাক্ষাৎকারগ্রহণ শুরু
আজ বিকাল ৩টা থেকে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল বিভাগ ও ফরিদপুরের প্রার্থীদের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হবে।
আগামীকাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।
নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল।
আপিল দায়েরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
জাতীয় নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১৪টি আসন ছাড় দেয় বিএনপি। এরমধ্যে ৯টি আসনে শরিক দলের প্রার্থীরা নিজস্ব দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়েছেন। বাকিরা নিজের দল ছেড়ে ধানের শীষে নির্বাচন করেছেন। জয়ীদের মধ্যে ৩ জনকে মন্ত্রিপরিষদে রেখেছে বিএনপি।