Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

গোপালগঞ্জসহ ৬ জেলা থেকে পুলিশে নিয়োগ দেয় আ.লীগ, ছিলো যে কৌশল

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

গোপালগঞ্জসহ ৬ জেলা থেকে পুলিশে নিয়োগ দেয় আ.লীগ, ছিলো যে কৌশল

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গোপালগঞ্জসহ ছয়টি জেলার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জেলা কোটায় পুলিশে নিয়োগ দিতে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য জেলাগুলো হলো ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট ও খুলনা। বিরোধী মত দমন এবং ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যেই পুলিশবাহিনীর ভেতরে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট কিছু জেলার দলীয় কর্মীদের পুলিশে চাকরি দিতে পরিকল্পিতভাবে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়। এ জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জমি কিনে সেই ঠিকানাকে স্থায়ী হিসেবে দেখানো হয়। চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর অনেকেই সেই জমি বিক্রি করে অর্থ তুলে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পুরো সময়জুড়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

তবে শুধু দলীয় বিবেচনাই নয়, এসব নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনও হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে একটি প্রভাবশালী পুলিশ সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যার নেতৃত্বে ছিলেন এসপি হাবিবুর রহমান। এই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান ঘটেছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে, এ ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করতে সরকার ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। গত ১৫ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে, যা ১৫ এপ্রিলের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সূত্র মতে, গোপালগঞ্জের এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং নিজের একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেন। তার প্রভাব এতটাই ছিল যে, অনেক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাও তাকে এড়িয়ে চলতেন।

প্রসঙ্গত, এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১২ সাল থেকে। পরবর্তীতে এসব নিয়োগ পাওয়া অনেকেই পদোন্নতি পেয়ে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও উপপরিদর্শক (এসআই) পদে উন্নীত হয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি অংশ পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার