Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

কে এই আলোচিত ডিসি কোহিনূর

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১০:২৯ এএম

কে এই আলোচিত ডিসি কোহিনূর

বিজ্ঞাপন

২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়া। দীর্ঘ ১৫ বছর পর পুলিশে চাকরি ফিরে পেয়েছেন তিনি। চাকরি ফিরে পেয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন সাবেক এই ডিসি।

সোমবার (৯ মার্চ) রাষ্ট্রপতির পুনর্বিবেচনার আওতায় তাকে সরকারি চাকরিতে পুনর্বহাল করেছে সরকার। বরখাস্তের পর থেকে বর্তমান সময় তার চাকরির মেয়াদের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি বকেয়া বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

কে এই কোহিনূর মিয়া

কোহিনূর মিয়া বিসিএস ১২ ব্যাচের কর্মকর্তা। সবশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৫ বছর আগে ডিএমপির ডিসি ও ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) থাকাকালে বিতর্ক তৈরি করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় কোহিনূর মিয়াকে। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শামসুন্নাহার হলে পুলিশের হামলা

তখন ২০০২ সাল। সেসময় বিএনপি জোট সরকারের আমল। ওই বছরের ২৩ জুলাই গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের শামসুন্নাহার হলে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ। তখন হামলার নেপথ্যে আলোচিত হয় কোহিনূর মিয়ার নাম।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জোড়া খুন

২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেসময় তিনি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার।

ওই মামলার বিবরণে বলা হয়, ময়মনসিংহের নান্দাইলে ২০০৪ সালের ৫ মে আচারগাঁও হাইস্কুল কেন্দ্রে পৌর নির্বাচনে ভোট চলাকালে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে সুজন ও আবু তাহের নামে দুজনের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নান্দাইল থানায় মামলা করে পুলিশ। পুলিশ ওই মামলার বাদী হয়। তদন্ত শেষ হলেও আসামি শনাক্ত হয়নি। এতে তিনবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে পুনরায় একটি মামলা করেন। মামলায় ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়া, নান্দাইলের সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী ও পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তার ভূইয়া উজ্জ্বলসহ ছয়জনের নাম দেওয়া হয়।

পরে নান্দাইল থানা পুলিশকে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। ওই বছরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া নারাজি দিয়ে ২০০৮ সালে জেলা জজ আদালতে একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

কোহিনূর মিয়ার নামে অভিযোগ দাখিল

আদালতের নির্দেশ পেয়ে মামলার তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ২০১১ সালে এসপি কোহিনূর মিয়া ও নান্দাইল পৌরসভার মেয়র আব্দুস ছাত্তারের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হন মো. কোহিনূর মিয়া।

দেড় দশক পর ফিরে পেলেন চাকরি

ওই মামলায় দীর্ঘ ২০ বছর ৬ মাস আইনি লড়াই চলে। এর মধ্যে কখনো গ্রেফতার হননি কোহিনূর মিয়া। অবশেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর কোহিনূর মিয়া ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তার খালাস পান। খালাসের রায় দেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়বা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাবরিনা আলী। পলাতক অবস্থাতেই মামলা থেকে তাকে খালাসের রায় দেন আদালত।

এবার আলোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ বাতিল করে পুনর্বহাল করেছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার