Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

আসন্ন বিশ্বযুদ্ধ ও মুসলমানদের করণীয় নিয়ে আহমদীয়া খলীফার আহ্বান

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ এএম

আসন্ন বিশ্বযুদ্ধ ও মুসলমানদের করণীয় নিয়ে আহমদীয়া খলীফার আহ্বান

বিজ্ঞাপন

নিখিলবিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামাতের প্রধান হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.) মুসলিম দেশগুলোকে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রশক্তিগুলোর ওপর নির্ভর না করে বরং আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা করার, নিজেদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠার এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

৬ মার্চ প্রদত্ত জুমআর খুতবায় তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব যেন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রশক্তিগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা পরিত্যাগ করে। তারা যেন পৃথিবীর বড় শক্তিগুলোকে নিজেদের উপাস্য বলে মনে না করে। এরা তাদের ক্ষতি করতে চায়। কাজেই এদের ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। স্থায়ী ক্ষমতা কেবল মহান আল্লাহতালার।

হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.) বলেন: “যুক্তরাষ্ট্র অনেক মুসলিম দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। কিন্তু এর প্রকৃত উদ্দেশ্যে কী? এসব দেশ প্রকৃতপক্ষে কার কাছ থেকে হুমকির সম্মুখীন ছিল? বাস্তবে এ অপশক্তিগুলোই নিজেরাই সেই হুমকি সৃষ্টি করেছে।” তিনি আরও বলেন: “এই ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতির কারণে আরব দেশগুলোর ওপর আক্রমণের সম্ভাবনা বেড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আক্রমণ ঘটেছেও। ফলে তাদের অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ধ্বংসের সম্মুখীন।”

এমটিএ ইন্টারশ্যানাল চ্যানেলের মাধ্যমে বিশ্বের ২২০টি দেশে সরাসরি সম্প্রচারিত যুক্তরাজ্যের টিলফোর্ডে অবস্থিত মোবারক মসজিদ থেকে খুতবা প্রদানকালে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সহসাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আরব দেশগুলোকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে।

হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.) বলেন: “মুসলিম দেশগুলোর সরকার, তাদের রাজনীতিবিদ এবং শাসকদের নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিত্যাগ করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করা উচিত।”

হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.) পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতের ৯-১০ আয়াতের আলোকে বলেন, মুসলিম বিশ্বকে শান্তি ও সন্ধির পথে অগ্রসর হবার এবং পরস্পর ভাই ভাই হয়ে বসবাস করার চেষ্টা করতে হবে। এটাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। এছাড়া নিজেদের মাঝে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিশ্বাসগত তারতম্য উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

খুতবার একপর্যায়ে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে বলে, ইরানে সরকার উৎখাতের জন্য তারা তাদের নেতাকে হত্যা করেছে অথচ বাস্তবতা হল, শিয়াদের আধ্যাত্মিক নেতা আয়তুল্লাহ খামেনি শাহাদত লাভ করার  কারণে জাতির মধ্যে তাঁর সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

শেষে তিনি বলেন, আরব দেশগুলো এবং ইরানের সরকারের পুনরায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে চীন এবং পাকিস্তান-সহ কয়েকটি দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে- এ বিষয়ে মুসলিম উম্মাহ এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

খুতবার একপর্যায়ে আহমদীয়া খলীফা একজন পশ্চিমা সাংবাদিকের অভিমত উদ্ধৃত করে বলেন, এমন একটি সময়ও আসতে পারে যখন আমেরিকা ও ইসরাইল এই যুদ্ধ থেকে বের হয়ে যাবে এবং মুসলিম বিশ্ব নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে থাকবে|

খুতবার শেষে তিনি বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করেন এবং আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সদস্যদেরকেও বিশ্বের শান্তি ও সব ধরনের অবিচার ও নিষ্ঠুরতার অবসানের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার