Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

তদন্তে ভয়াবহ তথ্য

তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবহৃত বিমানে বড় ত্রুটি

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:১৪ এএম

তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবহৃত বিমানে বড় ত্রুটি

বিজ্ঞাপন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ও নিরাপত্তা বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে উড়োজাহাজটি দীর্ঘ সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। একই উড়োজাহাজ ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইট হিসেবে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে বহনে ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিষয়টি সামনে আসার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন ব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য হিসেবে উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭-৯ ধরনের বিমানের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রুটি শনাক্তকরণ বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং সংশ্লিষ্ট জনবলের রেকর্ড উপস্থাপন করা যায়নি, যা তদন্ত কমিটির কাছে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব ছিল। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

বিমানের সিস্টেম সাধারণত শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য সংরক্ষণ করে। তবে তদন্ত শুরুর সময় সেই তথ্যের একটি বড় অংশ পাওয়া যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক তথ্য যথাসময়ে সংরক্ষণ করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকার সময় আবারও ভিএফএসজি (VFGS) সিস্টেম বিকল হয়ে যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ত্রুটি অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকৌশল বিভাগের ভুল ত্রুটি নির্ণয়ের কারণে এমন একটি বিমান ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হওয়ায় উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল।

এছাড়া বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য উড়োজাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রুটি সংশোধন ও বিমানটিকে পুনরায় ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই করেননি।

বিশেষ করে কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও বিমানটিকে ফ্লাইটের অনুমতি দেওয়াকে গুরুতর সিদ্ধান্তগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার