Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি কঠিন, তবে অসম্ভব নয়

দ্য ডিপ্লোম্যাটকে তারেক রহমান

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৪ এএম

এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি কঠিন, তবে অসম্ভব নয়

বিজ্ঞাপন

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।’ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। 

নয়াদিল্লির সাংবাদিক শাহাদাৎ স্বাধীনের নেওয়া এই কথোপকথন গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়। এতে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং দেশের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে পরিকল্পনা ও অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন। এটি কি অলীক কল্পনা নয়? যেখানে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার। সস্তা শ্রম আর পোশাক খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশ কি বাস্তবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে পারবে?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘এখন দেশের অর্থনীতি দুটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে– পোশাক খাত ও রেমিট্যান্স। আমরা আইটি খাতের ওপর জোর দেব।

এর সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালকা প্রকৌশল, জুতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও (এসএমই) নজর দেব। এ ছাড়া খাদ্য খাতেরও বড় সম্ভাবনা আছে। পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। সৃজনশীল অর্থনীতির সুযোগগুলো খতিয়ে দেখছি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট জানতে চায়– ব্যাংকের ৩৬ শতাংশই ঋণখেলাপি। অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার আমলে প্রতিবছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এমন একটি দেশে আপনি কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখেন?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘আপনি যেসব ঋণখেলাপ ও অর্থ পাচারের কথা বলছেন, তা হয়েছে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে। সরকার এ ধরনের কাজে উৎসাহ দিয়েছে। এসব ছিল জনগণের টাকা।

সেখানে কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি ছিল না। জনগণের প্রতি তাদের কোনো অঙ্গীকার ছিল না, তাই তারা এসব করেছে।

আপনার সরকার যে একই কাজ করবে না, তার নিশ্চয়তা কী– এ প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার হলো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, বর্তমান বিএনপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সব বয়সের মানুষ সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা বেড়েছে। তিনি ‘দ্য প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভাবনা শুনছেন।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পাঁচটি বিশেষ সেবার কথা উল্লেখ করেছেন। দরিদ্র নারীদের জন্য মাসিক ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড। কৃষকদের সরকারি সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা, ফার্মার কার্ড। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, হেলথ কার্ড। যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান। প্রবাসীদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বলয়ে না থেকে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রাখা হবে।

পরিবেশ রক্ষায় বিএনপি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। তিনি মনে করেন, জলবায়ু তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং দুর্নীতি রোধ করা গেলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার