Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ভোটের হালচাল: ঝুঁকিতে দুই দলের তিন শীর্ষ নেতা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

ভোটের হালচাল: ঝুঁকিতে দুই দলের তিন শীর্ষ নেতা

বিজ্ঞাপন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার লড়াইয়ে ঝুঁকিতে আছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের তিন শীর্ষ নেতা। অপর এক শীর্ষ নেতার জয়ের কোনো ঝুঁকি না থাকলেও একটি আসনে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারেন। মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র ওঠে এসেছে।

মাঠের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিতে পড়া তিন শীর্ষ নেতা হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে সহজে জয় পেলেও রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন।

শীর্ষ তিন নেতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। অতীতে চারবার নির্বাচন করে তিনি কখনো জয়ী হতে পারেননি। চারবারের মধ্যে দুইবার সিলেট-১ ও একবার করে মৌলভীবাজার-২ ও ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচন করেছেন।

২০১৮ সালে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডা. শফিক। তবে কুখ্যাত সেই রাতের ভোটের কারণে এই নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে এখানে জামায়াতের ভোট হিসাব করা সম্ভব নয়। তবে রাজধানী ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর ভোট খুবই কম।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে রাজধানীর একটি আসনে জামায়াতের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন দলের তখনকার ভারপ্রাপ্ত আমির আব্বাস আলী খান। সেবার তিনি পেয়েছিলেন ৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। অন্যান্য আসনে জামায়াত প্রার্থীরা পেয়েছিলেন গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ ভোট। পরের বার ১৯৯৬ সালে রাজধানীতে জামায়াতের ভোট ছিল আরও কম।

ডা. শফিক এবারও রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী। গত প্রায় ৩০ বছরে রাজধানীতে জামায়াতের ভোট বাড়লেও তা কত শতাংশ সেটি স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এখানে জামায়াতের ভোট হতে পারে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ।

তবে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ভরসা বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ। এই স্লোগানে ভোট বাড়বে বেশ খানিকটা। তবে সেই বাড়তি ভোটে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম। শুধু ধানের শীষ প্রতীকের কারণেই উতরে যেতে পারেন বিএনপির প্রার্থী। অতীতেও ১৯৯১ সালে তেমনটাই দেখা গেছে। এই নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির তুলনামূলক অখ্যাত প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন আওয়ামী লীগের ড. কামাল হোসেন। এবারও এখানে বিএনপির প্রার্থী তুলনামূলকভাবে অখ্যাত। তবে তাকে এগিয়ে রেখেছে ধানের শীষ প্রতীক। এ কারণে জামায়াত আমির ডা. শফিকের ভাগ্য ড. কামাল হোসেনের মতো হতে পারে।

ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলা নিয়ে খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত খুলনায় জামায়াতের ভোট কম হলেও এই আসনে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বেশ ভোট আছে। তবে সেটি নির্বাচিত হওয়ার মত নয়। ১৯৯১ সালে এই আসনে তিনি ১৮ শতাংশ ভোট পেলেও পরের বার ১৯৯৬ সালে তিনি নির্বাচন করেন খুলনা-৩ আসনে। সেখানে ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর খুলনা-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ভোট ছিল মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। অবশ্য এই আসনে বিএনপির নিজস্ব ভোটও আহামরি বেশি নয়, একক নির্বাচনে ১৯৯৬ সালে তারা পেয়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ ভোট।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট থেকে আবারও খুলনা-৫ আসনে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেবার দুই দলের মিলিত ভোটের সঙ্গে যোগ হয়েছিল জাতীয় পার্টির কিছু ভোট। এই আসনে আওয়ামী লীগের নিজস্ব ভোট সব সময়ই ৪০ শতাংশের বেশি।

আওয়ামী লীগ বিহীন আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। গত ৩০ বছরে এখানে জামায়াতের ভোটও বেড়েছে। তবে গোলাম পরওয়ারকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আলী আসগার লবি। এখানে বিএনপির তেমন কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় দলের সবাই আলী আসগার লবির পক্ষে একাট্টা।

এ ছাড়া এখানকার হিন্দু ভোটারদের নিজের পক্ষে টেনে আনায় গোলাম পরওয়ারের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছেন লবি। সব মিলিয়ে বেশ ঝুঁকিতে আছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও খুব একটা স্বস্তিতে নেই। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচন করছেন তিনি। এখানে ভোটের হিসাবে জামায়াতের চাইতে খানিকটা এগিয়ে বিএনপি। কিন্তু এবার মির্জা ফখরুলের প্রতি বিরাগভাজন নিজ দলেরই অনেক নেতাকর্মী। কারণ, দলের মহাসচিব হয়ে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন কমিটিতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দিয়েছেন। এতে রুষ্ট হয়েছেন তৃণমূলের অন্য নেতাকর্মীরা। মাঠ পর্যায়ের তথ্যে দেখা গেছে, প্রকাশ্যে তারা বিদ্রোহ না করলেও দলের পক্ষে প্রচারে তারা অনেকটাই নীরব। বিএনপির এই নীরব অংশের ভোট দাঁড়িপাল্লায় চলে যাওয়ার কথা বলছেন অনেক স্থানীয় বিশ্লেষক।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আওয়ামী লীগের ভোটারদের মাঠে নামানোর চেষ্টা করছেন মির্জা ফখরুল। এই এলাকায় আওয়ামী লীগের ভোটাররা বের হলে তাদের ভোট পাবেন তিনি। বিশেষ করে হিন্দু ভোটারররা কেন্দ্রে গেলে তাদের একচেটিয়া ভোট পাবেন তিনি। অর্থাৎ নির্বাচনের নদী পার হতে হলে তাকে নৌকার সমর্থকদের ওপর ভরসা করতে হবে। নইলে তারও পা পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।

দুই দলের চার নেতার মধ্যে শীর্ষে আছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নিশ্চিত সংসদে যাচ্ছেন। দল ক্ষমতায় গেলে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান নির্বাচন করছেন দুটি আসনে: বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে জয় নিয়ে কোনো সন্দেহ তো নেই-ই, কত ভোটের ব্যবধানে জিতবেন সেটাই দেখার পালা।

কিন্তু ঢাকা-১৭ আসনের হিসাব-নিকাশ নিয়ে নড়েচড়ে বসছেন অনেকেই। রাজধানীর গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্টের মতো অভিজাত এলাকার পাশাপাশি এই আসনে আছে কড়াইল ও ভাষানটেকের বস্তি। বস্তিগুলোতে ভোটারও আছেন অনেক। এসব এলাকায় বছর দেড়েক ধরে কাজ করছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। অন্যদিকে, গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্টের অভিজাতদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রবনতা কম। ভোটের আগে-পড়ে মোট তিনদিনের ছুটির কারণে বিএনপির সমর্থক অভিজাতদের অনেকেই অবকাশ কাটাতে চলে যেতে পারেন। এতে বিএনপির ভোট কমতে পারে।

অন্যদিকে অভিজাতদের মধ্যে জামায়াত সমর্থকদের প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এসব সমীকরণে এই আসনে জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে ভালোরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে পারেন তারেক রহমান। অবশ্য মাঠের তথ্য অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত তারই জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তবে ব্যবধান হতে পারে অনেক কম।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার