বিজ্ঞাপন
ফারুক আহমদ পেলেন “লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬”
সাংবাদিকতা ও ইতিহাস চর্চায় আজীবন অবদানের স্বীকৃতি
আজিজুল আম্বিয়া, লন্ডন
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
বিজ্ঞাপন
সাংবাদিকতা, ইতিহাস গবেষণা, শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ফারুক আহমদ লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব কর্তৃক প্রদত্ত “লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬” লাভ করেছেন। গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ লন্ডনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ফারুক আহমদ বিলাতে বাঙালির ইতিহাস রচনায় একজন পুরোধা গবেষক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ১৯৬৪ সালের ২২ জানুয়ারি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার গোয়াসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ফারুক আহমদ পরবর্তীতে প্রবাসী বাঙালি সমাজের ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতি গবেষণায় এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেন।
তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে লন্ডনপ্রবাসী। লন্ডন থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় মাসিক লন্ডন বিচিত্রা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি রেডিও বাংলাদেশ সিলেটের অনুমোদিত গীতিকার ও নাট্যকার হিসেবেও সুনাম অর্জন করেন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও তার অবদান প্রশংসনীয়। তিনি নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন রাণাপিং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, যেখানে তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি গোলাপগঞ্জ কোয়ালিটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং গোয়াসপুর কুতুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
গবেষণামূলক লেখালেখিতে ফারুক আহমদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বিলাতে বাংলা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা (২০০২),
বিলাতে বাংলার রাজনীতি (২০১২),
গোলাপগঞ্জের ইতিহাস (২০১৫),
সাপ্তাহিক জনমত: মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল (২০১৬),
বিলাতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা (২০১৮),
বিলাতে বাঙালি অভিবাসন (২০২১),
সিলেটের ইতিহাস : ব্রিটিশ আমল (২০২৫)
এছাড়াও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত তার গ্রন্থসমূহ ব্রিটেনে বাঙালি অভিবাসন ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
তার গবেষণামূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব আয়োজিত এবারের সম্মাননায় তাকে “History of Immigrants, History of Sylhet, Education and Social Work” ক্যাটাগরিতে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ফারুক আহমদ প্রবাসে বাঙালি সমাজের ইতিহাস সংরক্ষণ, শিক্ষা বিস্তার ও সাংবাদিকতায় তার আজীবন নিষ্ঠার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বিজ্ঞাপন