বিজ্ঞাপন
বেতন কমিশনের প্রস্তাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রতিবেদন প্রকাশ স্থগিত
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানোর সুপারিশে উপদেষ্টা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য অসন্তোষের মুখে কমিশনের প্রতিবেদন আপাতত প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মতবিনিময় করেন উপদেষ্টারা।
বৈঠক সূত্র জানায়, এক উপদেষ্টা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বড় পরিসরে বাড়ানো বৈষম্যমূলক হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের সীমিত আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়ানোর পক্ষে তিনি মত দেন।
এ বিষয়ে আরও দুইজন উপদেষ্টা একমত পোষণ করেন। তারা মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় এ ধরনের বড় ব্যয় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বৈঠকে জানান, অন্তর্বর্তী সরকার যেন নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না করে- এ জন্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। তার মতে, বেতন কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে তিনি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানোর সুপারিশ করায় বেতন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের কথা থাকলেও উপদেষ্টাদের আপত্তির কারণে তা করা হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করতে পারে।
এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়নসংক্রান্ত কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি।
বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় বেতন বৈষম্য ও নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন