বিজ্ঞাপন
সিরিয়াল কিলার সম্রাটকে নিয়ে আঁতকে ওঠার মত তথ্য দিলো পুলিশ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫১ এএম
বিজ্ঞাপন
ঢাকার সাভারে একের পর এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাসে সাভার মডেল থানা ও আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে একজন সিরিয়াল কিলারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, থানার আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাফেরা করা সম্রাট নামের এক ভবঘুরেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি মরদেহ পাওয়া যায়। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি রোববার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একই এলাকার আশপাশে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, তার প্রাথমিক বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যাচ্ছে।
সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, ঘটনাগুলো অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নৃশংস। মরদেহ উদ্ধারের পরপরই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাত ইসলাম বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে পাগল বলে মনে হয়নি। ভবঘুরে হিসেবে আমরা তাকে জানলেও তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, বেশিরভাগ ভুক্তভোগীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তারা ভবঘুরে ছিলেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মডেল মসজিদের সামনে যাকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তার পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তিনি আসমা বেগম (৬৫), একজন বৃদ্ধ নারী।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন