বিজ্ঞাপন
মাছ কেনায় জামাইদের প্রতিযোগিতা, শাপলা পাতা মাছের দাম লাখ টাকা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ এএম
বিজ্ঞাপন
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো আড়াইশ বছরের প্রাচীন জামাই মেলা। শুকিয়ে যাওয়া বিলের ধারে বসানো এ মেলায় মাছের দোকানগুলো বাহারি মাছের জন্য বিখ্যাত।
এ মেলায় মাছ কেনায় জামাইদের প্রতিযোগিতা চলে। আর এ মেলায় একটি শাপলা পাতা মাছের দাম হয়েছে ১ লাখ টাকা।
কথিত আছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনাকে ঘিরে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ১৮ শতকে গাজীপুরের কালীগঞ্জের বিনিরাইল গ্রামে মেলাটির প্রচলন শুরু হয়। মূলত ‘মাছ মেলা’ হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি জামাই মেলা নামে বেশি পরিচিতি পায়। এ বছর বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী এ জামাই মেলার আয়োজন করা হয়।
বিনিরাইল গ্রামে প্রতি বছর অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা। মেলা প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই বসে সারি সারি মাছের দোকান। সামুদ্রিক বড় মাছের পাশাপাশি এখানে দেশীয় প্রজাতির নানা মাছও বিক্রি হয়। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নানারকম সুর করেন দোকানিরা। কোন কোন দোকানি বড় মাছ মাথায় তুলে জানান দেন মেলার বড় মাছটি তিনি এনেছেন।
স্টলে সাজিয়ে রাখা হয় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, গ্রাস কার্প, সিলভার কার্পসহ বাহারি মাছ। ভোর থেকে দিনব্যাপী এই জামাই মেলায় দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন মাছ কিনতে। এলাকার কোন জামাই কত বড় মাছ কিনলেন এ নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা।
প্রতি বছর পৌষ-সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত এ মেলায় মাছ ছাড়াও আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি ইত্যাদির পসরা বসে। মাছের মেলায় সামুদ্রিক চিতল, বাঘাইড়, বোয়াল, কালবাউশ, পাবদা, গুলশা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইকলা, রূপচাঁদা মাছের পাশাপাশি স্থান পায় নানা রকমের সামুদ্রিক ও দেশি মাছ। মাছ কিনে খুশি এলাকার জামাইরা।
মেলায় চলছে হাঁকডাক ও দরদাম। ছোট মাছ থেকে শুরু করে ৩০-৪০ কেজি ওজনের মাছও আছে। এছাড়াও রয়েছে সামুদ্রিক মাছ। আশপাশের গ্রামের জামাতা-শ্বশুরসহ বিভিন্ন সম্পর্কের মানুষ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে মাছ কিনতে মেলায় এসেছেন।
এবারের মেলায় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে শাপলা পাতা মাছ; যার ওজন হলো ১২২ কেজি। মাছটির দাম লাখ টাকা হওয়ায় পুরো মাছটি কেনার মতো ক্রেতা না থাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা।
মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি আলী হোসেন বলেন, মেলার বয়স কেউ বলতে পারবে না। তবে আমরা হিসাব করে দেখেছি ৩০০ বছরের বেশি হবে। মেলাটি এখন এ অঞ্চলের উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার বড় সাইজের মাছ কিনতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, মিষ্টান্ন, লোকজ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তবে মাছের জন্যেই বেশি পরিচিত।
পুরোনো এ মেলাটি প্রতি বছর হাজারও মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দূর দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ আসেন সর্ববৃহৎ এই মাছের মেলায়। গাজীপুর ছাড়াও টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ কেবল এ মেলা উপলক্ষেই কালীগঞ্জে আসেন।
কালীগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, মেলা পর্যবেক্ষণে রয়েছে থানার টহল পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। মেলা চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন