বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় সেই মডেল কারাগারে
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে এখন কারাগারের বন্দিজীবন কাটছে মডেল শ্রদ্ধা দুবের। ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর ভারতের লক্ষ্ণৌয়ের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন তিনি।
কারাগারে ৪৫ জন নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে রাখা হয়েছে শ্রদ্ধাকে। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছেন না তিনি। অন্য বন্দিদের সঙ্গেও খুব একটা কথা বলছেন না বলে জানা গেছে।
গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে শিবা শর্মার মৃত্যু হয়। ওই আবাসনেই মডেল শ্রদ্ধা দুবের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন তিনি।
শিবার মৃত্যুর ঘটনায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রদ্ধা। তাঁর দাবি, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনার পর গত ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের পুলিশ নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিলকে গ্রেপ্তার করে। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে।
এর আগে নেপালে অবস্থানকালে পুলিশের নজরে আসার পর গ্রেপ্তার এড়াতে তারা ভারতে ফিরে আসেন। পরে নাগপুরে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়।
শিবার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধাদের পালিয়ে থাকতে সহায়তাকারীদেরও খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় সামনে এসেছে শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম। অভিযোগ, আমির ও তার সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলের জন্য কানপুর, নাগপুর এমনকি নেপালেও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।
আমিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, তিনজনকে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাদের ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে শ্রদ্ধা ও রশ্মিকে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের অন্য কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে দুই বোনের ঠাঁই হয়েছে ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেননি বলেও জানিয়েছে কারা সূত্র।
কারাগারের জেলার ঋত্বিক প্রিয়দর্শী জানিয়েছেন, দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। তবে তাদের আচরণে উদ্বেগের ছাপ রয়েছে। বেশির ভাগ সময় চুপচাপ বসে থাকছেন তারা। মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যে কথা বললেও অন্য বন্দিদের সঙ্গে তেমন মিশছেন না।
কারাগারে প্রথম রাতেও স্বাভাবিক ছিলেন না শ্রদ্ধা। রাতে তাকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হলেও খেতে চাননি তিনি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন, ঘুমও হয়নি ঠিকমতো। ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়। বিলাসবহুল জীবন থেকে কারাগারের এমন কঠোর রুটিনে এসে এখন এভাবেই দিন কাটছে এই মডেলের।