Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

কেউ যদি বলে— ‘আমার জন্য একটু দোয়া করবেন!’ তখন করণীয় কী?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

কেউ যদি বলে— ‘আমার জন্য একটু দোয়া করবেন!’ তখন করণীয় কী?

বিজ্ঞাপন

পৃথিবীর সব কষ্ট কি আর চোখে দেখা যায়? সব কান্না কি চোখের জলে প্রকাশ পায়? কিছু মানুষ হাসিমুখে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেন, অথচ বুকের ভেতর বয়ে বেড়ান অসংখ্য না বলা কষ্ট, অজানা দুশ্চিন্তা আর নীরব যন্ত্রণা। হয়তো কাউকে কিছু বলার সাহস পান না, শুধু আল্লাহর কাছে হাত তুলে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান।

তাই কেউ যখন আপনার কাছে বিনয়ের সঙ্গে বলে, ‘আমার জন্য একটু দোয়া করবেন!’—তখন তার কথাটিকে সাধারণ অনুরোধ ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। বরং আন্তরিকতার সঙ্গে তাকে নিজের দোয়ায় স্মরণ রাখুন।

কেউ যখন আপনার কাছে দোয়া চায়, তখন যথাসম্ভব তার জন্য সত্যিই দোয়া করুন। কারণ আপনি জানেন না, এই মুহূর্তে তার হৃদয়ের ওপর কতটা দুশ্চিন্তা, কতটা কষ্ট আর কতটা না বলা যন্ত্রণা চেপে বসে আছে!

হয়তো দিনের পর দিন সে এমন কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছে, যার কথা কাউকে খুলে বলতেও পারছে না। হয়তো তার জীবনে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে, যার সমাধান তার সাধ্যের বাইরে। হয়তো একটুখানি স্বস্তি, একটু প্রশান্তি আর আল্লাহর বিশেষ রহমতের আশায় সে আপনার কাছে দোয়া চেয়েছে।তাই সঙ্গে সঙ্গে বলুন-

اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَأَطِلْ عُمُرَهُ، وَاغْفِرْ لَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا رَزَقْتَهُ.

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাকছির মালাহু ওয়া ওয়ালাদাহু ওয়া আত্বিল ও’মরাহু ওয়াগফিরলাহু ওয়া বারিকলাহু ফিমা রাযাক্বতাহু।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি তার অর্থ, সন্তান, ও বয়স বৃদ্ধি করে দিন। আর তাকে ক্ষমা করুন এবং তাকে যে রুজি (রিজিক) দিয়েছেন তাতে বরকত দিন।

আরও পড়ুন
মনে রাখবেন, একজন মুমিনের জন্য অন্য মুমিনের অনুপস্থিতিতে আন্তরিকভাবে দোয়া করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ

‘আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও ক্ষমা করুন, যারা ইমানের সঙ্গে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ১০)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, নিজের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি অন্য মুমিন ভাই-বোনদের জন্যও ক্ষমা ও কল্যাণ কামনা করা মুমিনের সুন্দর বৈশিষ্ট্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ

‘একজন মুসলিম ব্যক্তি তার অনুপস্থিতিতে তার ভাইয়ের জন্য যে দোয়া করে, তা কবুল করা হয়।’

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করে, ফেরেশতা বলেন, ‘আমিন! তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।’ (মুসলিম ২৭৩২)

একবার ভেবে দেখুন, আপনি যখন অন্য কারও জন্য নিভৃতে কল্যাণের দোয়া করছেন, তখন একজন ফেরেশতা আপনার নিজের জন্যও অনুরূপ কল্যাণের দোয়া করছেন! তাহলে কেন আমরা এই মহৎ সুযোগটি হাতছাড়া করব?

হয়তো আপনার করা একটি আন্তরিক দোয়ার উসিলায় আল্লাহ তাআলা তার জীবনের কোনো কঠিন পরিস্থিতি সহজ করে দেবেন। তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন, বিপদ থেকে মুক্তি দেবেন কিংবা তার হৃদয়ে প্রশান্তি দান করবেন।

আমরা জানি না, কার কোন দোয়া কখন কার জীবনে রহমত হয়ে আসে। তবে এটুকু বিশ্বাস রাখতে পারি, আল্লাহর কাছে করা কোনো আন্তরিক প্রার্থনাই অর্থহীন নয়।

তাই কেউ যদি কখনো আপনার কাছে এসে বলে, ‘আমার জন্য একটু দোয়া করবেন!’—তাহলে শুধু মুখে আশ্বাস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবেন না। বরং সুযোগ পেলেই তার জন্য দোয়া করুন। তার নাম মনে থাকলে নাম ধরে দোয়া করুন। তার কষ্টের কথা জানা থাকলে সেই কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করুন। আর কিছুই জানা না থাকলে অন্তত এতটুকু বলুন—

‘হে আল্লাহ! তার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দিন, তার কষ্টগুলো সহজ করে দিন, তার মনের নেক ইচ্ছাগুলো পূরণ করুন এবং তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করুন।’ 

মনে রাখবেন, হয়তো আপনার একটি আন্তরিক দোয়াই কারও জীবনে আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। কেউ দোয়া চাইলে তাকে অবহেলা করবেন না। নিজের দোয়ায় তাকে স্মরণ রাখবেন। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাদের সবাইকে একে অপরের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করার সুন্দর মানসিকতা দান করুন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার