বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
শেষ রাতের আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআন-হাদিসে শেষ রাতে বিভিন্ন আমলের ওপর উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই রাতে জাগরণ প্রবৃত্তি দমনে অধিক সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণে অনুকূল।’ -সূরা মুজ্জাম্মিল
বুজুর্গ আলেমরা তাই শেষ রাতে বেশ কিছু আমলের কথা বলেছেন। এগুলো হলো-
দোয়া ও ইস্তেগফার: শেষ রাতে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, দোয়া করা ও কোনো কিছু চাইতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। তিনি বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব; কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ -সহিহ বুখারি: ১১৪৫
মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা: অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাতে আল্লাহতায়ালা তার দয়ার হাত প্রসারিত করেন যেন দিবসের অপরাধী তার কাছে তওবা করে। এমনিভাবে দিনে তিনি তার হাত প্রসারিত করেন, যেন রাতের অপরাধী তার কাছে তওবা করে। এমনিভাবে দৈনন্দিন চলতে থাকবে পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। -সহিহ মুসলিম: ৬৮৮২
সাধ্যমতো নফল নামাজ পড়া: শেষ রাতের নামাজ পড়ার প্রশংসা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ -সূরা বনি ইসরাঈল: ৭৯
কুরআনে কারিম তেলাওয়াত করা: কুরআনে কারিম তেলাওয়াত একটি মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আর রাতের বেলা এ আমলের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায়।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বস্ত্রাবৃত! রাতে নামাজে দাঁড়ান, কিছু অংশ ছাড়া, রাতের অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে কিছুটা কম। অথবা তার চেয়ে বাড়াও আর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কুরআন পাঠ করো।’ -সূরা মুজ্জাম্মিল: ১-৪
তাসবিহ ও জিকির করা: রাতের ইবাদত শুধু নামাজ ও কুরআন পাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কিছু সময় আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করাও অনেক সওয়াবের। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং রাতের একাংশেও তুমি তার তাসবিহ পাঠ করো এবং নামাজের পরও।’ -সূরা কাফ: ৪০ঘড়ি কিনুন
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর রাতের একাংশে তার উদ্দেশে সিজদা করো এবং দীর্ঘ রাত ধরে তার তাসবিহ পাঠ করো।’ -সূরা দাহর: ২৬
মহান আল্লাহ আমাদের আমল কবুল করুন। আমিন।