Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

মুহূর্তেই কবুল হতো নবীজির দোয়া, বিস্ময়কর ৩ ঘটনা

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৬ এএম

মুহূর্তেই কবুল হতো নবীজির দোয়া, বিস্ময়কর ৩ ঘটনা

বিজ্ঞাপন

প্রিয় নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার মসজিদে নববীতে জুমার খুতবা দিচ্ছেন। এমন সময় এক সাহাবী এসে বললেন, `ইয়া রাসুলাল্লাহ! অনাবৃষ্টি ও তীব্র দুর্ভিক্ষে রাস্তাঘাট ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, আমাদের গবাদি পশুগুলো পানির অভাবে মারা যাচ্ছে, কুয়ার মধ্যে কোনো পানি নাই। আপনি আল্লাহর কাছে একটু দোয়া করেন, আল্লাহ যেন আমাদের বৃষ্টি দান করেন।’

রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে সাথে খুতবা থামিয়ে দুই হাত তুললেন। আমরা তো সাধারণত হাত কিছুটা তুলে দোয়া করি, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাঝে মাঝে দোয়ায় হাত এত উঁচুতে তুলতেন যে তাঁর বগলের শুভ্রতা পর্যন্ত দেখা যেত। তিনি হাত আকাশের দিকে তুলে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাতে লাগলেন, ‘আল্লাহুম্মা-সকিনা, আল্লাহুম্মা-সকিনা, আল্লাহুম্মা-সকিনা অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন।’

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর আবেদন কবুল করলেন। তখনই শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। ওই জুমার দিন বৃষ্টি শুরু হলো, এরপর শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার—এভাবে টানা সাত দিন ধরে বৃষ্টি চলল। সাহাবীরা বর্ণনা করেন, ওই টানা সাত দিনে তাঁরা মদিনার আকাশে আর সূর্য দেখতে পাননি।

পরের জুমাবারে প্রিয় নবীজি যখন পুনরায় মসজিদে নববীতে জুমার খুতবা দিচ্ছেন, তখন আবার সেই সাহাবী দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! মদিনায় এত বৃষ্টি হয়েছে যে এখন বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এবার আপনি বৃষ্টি বন্ধের জন্য দোয়া করুন! অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আমাদের গবাদি পশু মারা যাচ্ছে এবং রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।’

রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কথা শুনে আবার হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের এখানে তো পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে, এবার আপনি আমাদের চারপাশের শুকনো অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টি দিন। মদিনা শহরের ওপর আর বৃষ্টি দিয়েন না।’

নবীজির (সা.) এই দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যেই মদিনার ওপর থেকে মেঘগুলো চারদিকে সরে যেতে শুরু করল। নামাজের পর সাহাবিরা মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখলেন, মদিনার আকাশ একেবারে পরিষ্কার এবং সূর্য দেখা যাচ্ছে, অথচ দূর-দূরান্তের চারপাশের অঞ্চলে বিজলি চমকাচ্ছে আর মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।

এ রকমই ছিল রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়ার বরকত তিনি যে কোনো দোয়া করা মাত্রই তা সাথে সাথে কবুল হয়ে যেত।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর জন্য প্রিয় নবীজি বিশেষ দোয়া করেছিলেন। আনাসের (রা.) মা রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার ছেলেটার জন্য একটু দোয়া করে দিন।’ তখন নবীজি দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আনাসের সম্পদে এবং সন্তানে বরকত দান করুন।’

এই দোয়া এমনভাবে কবুল হয়েছিল যে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘মদিনার অন্য সবার খেজুর বাগানে বছরে একবার খেজুর হতো, কিন্তু নবীজির (সা.) দোয়ার বরকতে আমার খেজুর বাগানে বছরে দুইবার করে ফলন হতো।’ আর হজরত আনাসের (রা.) মোট সন্তানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৮২ জনে! আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর দোয়ার বরকতে এমন অলৌকিক প্রাচুর্য দান করেছিলেন।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) সপ্তম হিজরিতে ইমান এনেছিলেন। তিনি চাইতেন তার মা-ও ইমানের সৌভাগ্য লাভ করুন। কিন্তু তার বৃদ্ধা মা কুফরের ওপর অনড় ছিলেন। আবু হোরায়রা (রা.) এটি কিছুতেই সহ্য করতে পারতেন না যে, তিনি নিজে জান্নাতে যাবেন আর তাঁর মা ইমান না এনে জাহান্নামী হবেন। তা ছাড়া তার মা শুধু কুফরের ওপর ছিলেন তাই নয়, বরং রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গালিগালাজ করতেন এবং কটু কথা বলতেন। মায়ের মুখে প্রিয় নবীজির (সা.) বিরুদ্ধে এমন মন্দ কথা শুনে আবু হোরায়রার (রা.) বুক ফেটে যেত।

একদিন তিনি ব্যাকুল হয়ে প্রিয় নবীজির দরবারে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমার মায়ের জন্য একটু দোয়া করে দিন, যাতে আল্লাহ আমার মাকে হেদায়েত দান করেন।’ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তৎক্ষণাৎ হাত তুলে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আবু হোরায়রার মাকে আপনি হেদায়েত দান করুন।’ নবীজির (সা.) মুখ থেকে এই দোয়া শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে আবু হোরায়রা (রা.) বাড়ির দিকে ছুটলেন যে দেখি নবীজির (সা.) দোয়ার বরকতে কী হয়!

বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখলেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা। ভেতর থেকে তার মা বললেন, ‘আবু হোরায়রা, তুমি একটু বাইরে অপেক্ষা করো, আমি আসছি।’ আবু হোরায়রা (রা.) তার মায়ের গোসলের আওয়াজ শুনতে পেলেন। গোসল শেষ করে তিনি সুন্দর পরিষ্কার পোশাক পরিধান করে দরজা খুলে সামনে এসে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয় আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু’ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও প্রেরিত রাসুল।

মায়ের মুখে এই শাহাদাতের কালিমা শুনে আবু হোরায়রা (রা.) আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লেন। তিনি আর কথা না বাড়িয়ে ওখান থেকেই উল্টো ঘুরে আবার রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরবারে ছুটে গেলেন। আবু হোরায়রাকে এত আনন্দ ও উৎফুল্লতা নিয়ে আসতে দেখে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আবু হোরায়রা! তুমি তো বাড়িতে গিয়েছিলে, সেখানে কী দেখে এলে?’

আবু হোরায়রা (রা.) অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার নিজের ঘরে পৌঁছানোর আগেই আপনার পবিত্র দোয়া আমার ঘরে পৌঁছে গেছে! ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি পৌঁছানোর আগেই আপনার দোয়ায় আমার মা কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেছেন!’

সিরাত ও হাদিসের গ্রন্থসমূহ পাঠ করলে এমন অসংখ্য ঘটনা পাওয়া যায়, যেখানে রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়া আল্লাহ তাআলা মুহূর্তের মধ্যে কবুল করে নিয়েছেন। এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয় হাবিবকে দান করা অনন্য এক মুজিজা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার