বিজ্ঞাপন
শারদীয় শুভেচ্ছা জানানো কি জায়েজ নাকি হারাম? ইসলামের বিধান কী
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
বিজ্ঞাপন
ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অন্য ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানানো, তাদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিংবা উপহার বিনিময় করা নিয়ে ইসলামের বিধান কী, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে একটি ফতোয়ায় অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো ও উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়াকে নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফতোয়াটি ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। এতে প্রশ্ন করা হয়, পূজায় শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে শরিয়তের বিধান কী। এর জবাবে মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি ইসলামী স্কলার ইবনুল কাইয়্যেম ও শায়খ ইবনে উছাইমীনের বক্তব্যের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, খ্রিষ্টানদের বড়দিনসহ অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো হারাম। এ প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যেম তার ‘আহকামু আহলিয যিম্মাহ’ গ্রন্থে ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা যুমারের ৭ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করা হয়েছে। আয়াতটির অর্থ হলো, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না। একইভাবে সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতে ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করার কথা বলা হয়েছে।
ফতোয়াটিতে বলা হয়েছে, অমুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানালে এর জবাব না দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, ওই উৎসব মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব নয় বলে ফতোয়ায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এ ছাড়া অন্য ধর্মের উৎসবের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, ওই উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা, উপহার বিনিময়, মিষ্টান্ন বিতরণ কিংবা উৎসবকেন্দ্রিক ছুটি উদ্যাপনের মতো কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণ করা শুভেচ্ছা জানানোর চেয়েও গুরুতর বিষয়। এতে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হয় বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’- এই বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। ফতোয়াটিতে আরও বলা হয়েছে, সৌজন্য, সামাজিক সম্পর্ক কিংবা সংকোচের কারণে এমন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও তা নিষিদ্ধ কাজের বিধান পরিবর্তন করে না।
ফতোয়াটির শেষে শায়খ ইবনে উছাইমীনের ‘মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল’ গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডের ৩৬৯ পৃষ্ঠার উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তরদাতা: মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি, মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।