Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা দেওয়া কি সুদ? কী বলছে শরিয়ত

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা দেওয়া কি সুদ? কী বলছে শরিয়ত

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ বিল নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত টাকা বা জরিমানা আদায় করা শরিয়তসম্মত নয় বলে মত দিয়েছেন ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞরা। বিলম্বের কারণে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ কোম্পানি নিজেদের আয় হিসেবে গ্রহণ করলে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে বলে একটি ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর গ্রাহকের ওপর যে বিলের দায় তৈরি হয়, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে ঋণ হিসেবে বিবেচিত। এ ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা সুদের পর্যায়ে পড়ে।

বিলম্বের জরিমানা কেন সুদ হিসেবে বিবেচিত?

ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাহেলিয়াতের যুগে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে বলত, হয় ঋণ পরিশোধ করতে হবে, নয়তো সময় বাড়ানোর বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ।

আরও পড়ুন
এ প্রসঙ্গে ফিকহের একটি মূলনীতি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ঋণের বিপরীতে শর্তযুক্ত অতিরিক্ত সুবিধা বা অর্থ গ্রহণ সুদের অন্তর্ভুক্ত। তাই বিদ্যুৎ বিল দেরিতে পরিশোধের কারণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে তা নিজেদের আয় হিসেবে রাখা শরিয়তসম্মত নয় বলে ফতোয়ায় মত দেওয়া হয়েছে।

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিল দিতে দেরি করা যাবে না

ফতোয়ায় মুসলিম গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিল পরিশোধে দেরি করা অনুচিত এবং গুনাহের কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

বাধ্য হয়ে জরিমানা দিলে কী হবে?

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অসামর্থ্যের কারণে নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করা সম্ভব না হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে বিলম্বজনিত জরিমানা এড়ানোর সুযোগ না থাকলে বাধ্য হয়ে তা পরিশোধ করতে হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়- এমন অবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া অন্যের সম্পদ গ্রহণ করা বৈধ নয়। এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার