Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

মসজিদে প্রবেশের সময় যে ৫ আদব মানা জরুরি

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ এএম

মসজিদে প্রবেশের সময় যে ৫ আদব মানা জরুরি

বিজ্ঞাপন

মসজিদ আল্লাহর ঘর, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় ও পবিত্র স্থান। এ ঘরে যিনি প্রবেশ করেন, তিনি যেন মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হন।

তাই প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য অন্তরে ভক্তি আর শরীরে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে মসজিদে যাওয়া। 

মসজিদ মানে সিজদার জাগয়া, যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। বান্দা সিজদারত অবস্থায় মহান আল্লাহর খুব কাছাকাছি থাকে। পাশাপাশি এটি ইলম, জিকির ও হেদায়েতের কেন্দ্র।

এখান থেকে মানুষ উপদেশ পায়, দ্বিনের জ্ঞান অর্জন করে এবং আত্মার প্রশান্তি খুঁজে পায়। যে স্থান এত কল্যাণের উৎস, সেখানে প্রবেশের আদব জানা ও মানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। নিম্নে মসজিদে প্রবেশের কয়েকটি আদব তুলে ধরা হলো—

১. পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পোশাক : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তোমরা যখনই কোনো মসজিদে আসবে, তখন নিজেদের শোভার বস্তু (অর্থাৎ পোশাক) নিয়ে আসবে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)

তাফসিরের কিতাবে এসেছে, মুশরিকরা তাদের ধর্মবিশ্বাস মতে, উলঙ্গ অবস্থায় পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতে চলে আসত।

এটাকে তারা অধিক পবিত্রতা মনে করত। মহান আল্লাহ তাদের এই ভ্রান্ত বিশ্বাস সম্পর্কে মুসলমানদের সতর্ক করে আয়াত অবতীর্ণ করেন, তাদের শালীন পোশাক ও উত্তম সাজে মসজিদে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। বোঝা গেল, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ভালো পোশাক পরে মহান আল্লাহর ঘরে আসা আদবের শামিল।

২. কষ্টদায়ক দুর্গন্ধ থেকে বেঁচে থাকা : দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা মসজিদের আদবের পরিপন্থী কাজ।  মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রসুন, পেঁয়াজ বা এজাতীয় কিছু খাবে, সে যেন মসজিদের কাছেও না আসে; কারণ মানুষ যেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও সেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পান।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৪১)

ধূমপানের গন্ধ, ঘাম ও অপরিচ্ছন্ন পোশাকের দুর্গন্ধও একই বিধানের আওতায় পড়ে। তাই মসজিদে যাওয়ার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া ও সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম।

৩. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি জানত আজান ও প্রথম কাতারে কী সওয়াব রয়েছে, আর লটারি ছাড়া তা পাওয়ার উপায় না থাকত, তবে তারা অবশ্যই লটারি করত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৫)

প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর আগ্রহ আসলে আল্লাহর ঘরের প্রতি ভালোবাসারই প্রকাশ। তাই সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য নামাজের সময়গুলোতে মসজিদে আগে আগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

৪. প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে প্রবেশ করা : মসজিদের ভেতর জোরে হাঁটা, দৌড়াদৌড়ি করা অনুচিত। হাদিস শরিফে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন নামাজ শুরু হয়ে যায়, তখন দৌড়ে গিয়ে নামাজে যোগদান করবে না; বরং হেঁটে এসো, ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা তোমাদের জন্য আবশ্যক। (বুখারি, হাদিস : ৯০৮)

তা ছাড়া শরীর হাঁপিয়ে উঠলে মনও অস্থির থাকে; আর অস্থির মন নিয়ে খুশু অর্জন করা কঠিন।

৫. মসজিদে প্রবেশের সুন্নাহ আদায় ও দোয়া পড়া : মসজিদের প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ পড়া, দরুদ শরিফ ও দোয়া পড়ে ডান পা আগে বাড়িয়ে প্রবেশ করা সুন্নত। তারপর ইতিকাফের নিয়ত করে বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা সুন্নাহ। এমনিভাবে বের হওয়ার সময় বিসমিল্লাহ, দরুদ ও দোয়া পড়া সুন্নত। তারপর ডান পা বাড়িয়ে বের হওয়া এবং ডান পায়ে আগে জুতা পরিধান করা সুন্নত। মসজিদের আদব রক্ষা করা মসজিদের প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শনের অন্যতম লক্ষণ।

এই আন্তরিকতা মুমিনের জন্য এতটাই উপকারী যে কিয়ামতের কঠিন দিনেও এর সুফল পাওয়া যাবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন, যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ নিজের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন; তাদের একজন হলো সেই ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ঘরের আদব রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার