বিজ্ঞাপন
এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও বানানো কি জায়েজ: ইসলাম কী বলে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। তাই এখনকার যুগের ছোট শিশুরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিভিন্ন চ্যাটবটের সঙ্গে চ্যাট করে। তা ব্যবহার করে ছবি, ভিডিও ইত্যাদি তৈরি করে। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও অনেক সময় বাস্তব মানুষের চেয়েও নিখুঁত, আকর্ষণীয় ও নান্দনিক মনে হয়।
কাল্পনিক চরিত্র, বিজ্ঞাপন, সিনেমা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এ ধরনের ছবি ও ভিডিও ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে হরহামেশাই বিপরীত লিঙ্গের মানুষের ছবি দেখা যাচ্ছে।
ফলে মুসলমানের জন্য একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে, এআই দিয়ে তৈরি কোনো কাল্পনিক সুন্দরী নারী বা পুরুষের ছবি কিংবা ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে দৃষ্টি সংযমের ইসলামী বিধান কিভাবে প্রযোজ্য হবে? কেননা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে।
এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৩০)
উল্লিখিত আয়াতে দৃষ্টি সংযত রাখার ব্যাপারে আদেশ করা হয়েছে। কেননা শরিয়ত সমর্থিত যৌক্তিক কারণ ছাড়া যত্রতত্র দৃষ্টি দেওয়ার কারণে মানুষের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে, যা মানুষকে নিষিদ্ধ কাজে প্ররোচিত করতে পারে।
যেসব কাজ গুনাহর প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ায়, ধীরে ধীরে অন্তরকে অস্থির করে তোলে, ইসলাম সেগুলো নিষিদ্ধ করেছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বনি আদমের জন্য ব্যভিচারী একটা অংশ নির্ধারিত রেখেছেন। সে তাতে অবশ্যই জড়িত হবে। চোখের জিনা হলো দেখা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, অন্তরের কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খায়েশ সৃষ্টি করা এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে। (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৩)
এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, দৃষ্টি অনেক সময় শুধু চোখের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা অন্তরে আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করতে পারে।
এরপর সেই আকাঙ্ক্ষা মানুষকে আরো বড় গুনাহর দিকে ঠেলে দিতে পারে। যে জিনিসের আকর্ষণীয় রূপ দেখে তার মধ্যে গুনাহর আকাঙ্ক্ষা তৈরি হচ্ছে, সেটা এমনও হতে পারে যে তার হাতের নাগালের বাইরে (যেমন—ভিনদেশি কোনো নারীর ছবি বা ভিডিও), অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কাল্পনিক নারীও হতে পারে।
কিন্তু তার মনে তৈরি আকাঙ্ক্ষাটি তাকে বাস্তবে যেখানে সুযোগ পাবে, সেখানে গুনাহর দিকে প্ররোচিত করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই অভিজ্ঞ আলেমদের মতে, পত্রপত্রিকায় ছাপা হারাম ছবিও দেখা নিষেধ। তাঁদের মতে, যেসব ছবি বা ফটো তোলা নাজায়েজ ও হারাম, ওই সব ছবি বা ফটো দেখাও হারাম। অনিচ্ছাকৃত চোখ পড়ে গেলে অবশ্য গুনাহ হবে না, তবে দেখামাত্র চোখ ফিরিয়ে নিতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে ইসলামিয়া : ৪/৩৪৬, জাওয়াহিরুল ফিকহ : ৩/২৩৯, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১২/১৮১)
এই দাবির পক্ষে পবিত্র কোরআনের আরেকটি শক্তিশালী আয়াত আনা যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৩২)
তাফসিরে মাআরিফুল কোরআনে এই আয়াতের অর্থ এভাবে এসেছে, ‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না (অর্থাৎ এর প্রাথমিক কারণাদি থেকেও বেঁচে থাকো)। নিশ্চয় এটা (নিজেও) নিতান্ত অশ্লীল কাজ এবং (অন্যান্য অনিষ্টের দিক দিয়েও) মন্দ পথ। (কেননা এর পরিণতিতে শত্রুতা, গোলযোগ এবং বংশবিকৃতি দেখা দেয়।)
সাদি (রহ.) বলেন, ‘কোনো কাজের নিকটবর্তী হতেও নিষেধ করার মানে হলো, এই নিষেধাজ্ঞা অনেক ব্যাপক। এর মাধ্যমে ওই কাজের সব ধরনের ভূমিকা ও প্ররোচনামূলক উপায় থেকেও নিষেধ করা হয়। কেননা যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ এলাকার চারপাশে ঘোরাফেরা করে, অচিরেই সে তাতে পড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে এমন একটি বিষয়, যার প্রতি অনেক মানুষের অন্তরে প্রবল আকর্ষণ রয়েছে।
অতএব, যেসব জিনিসের ছবি বাস্তবে তৈরি করা বা দেখা হারাম, সেগুলোর এআই জেনারেটেড ছবি বা ভিডিও থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি। কেননা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার কিংবা অন্য ডিভাইসের স্ক্রিনে দুটিই মানুষের অন্তরকে যেমন সমানভাবে বিনোদন দিতে পারে, তেমনি ফিতনার প্রতি আকৃষ্টও করতে পারে। তাই তাকওয়ার দাবি হলো, দুটি থেকেই দৃষ্টি সংযত রাখা।