Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

শিশুরা কথা না শুনলে কী করবেন, জানালেন মুফতি

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

শিশুরা কথা না শুনলে কী করবেন, জানালেন মুফতি

বিজ্ঞাপন

এক প্রশ্নকারী জানতে চান, আল্লাহ আমাকে একজন সন্তান দিয়েছেন। কিন্তু সে আমার কথা শোনে না। তার বয়স ৫ বছর। আমি চাই, সে সর্বদা আমার কথা মানবে। তাকে কিছু বুঝিয়ে বললেও ভুলে যায়, মারলেও ভুলে যায়। যেমন কোথাও যেতে নিষেধ করলে সে আবার যায়। একবার নয়, বারবার। এখন আমার প্রশ্ন হলো, তাকে আমি কথা শোনাবো কীভাবে?

উত্তরে ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলাম এবং আধুনিক বিজ্ঞান—উভয় মতেই ৫ বছর বয়সের একটি শিশু পুরোপুরি পরিপক্ব নয়।

এই বয়সের বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি খুব ক্ষণস্থায়ী হয়। তারা কোনো জেদ বা অবাধ্যতা থেকে আপনার কথা অমান্য করে না, বরং নতুন কিছু দেখার কৌতূহল তাদের আগের নিষেধ ভুলিয়ে দেয়।

আপনি বলেছেন, সে মারলেও ভুলে যায়। এটি আসলে আল্লাহর একটি রহমত যে শিশুদের মন খুব স্বচ্ছ হয়, তারা দুঃখ ধরে রাখে না। কিন্তু শাসন যখন শারীরিক হয়, তখন শিশু শিখতে পারে না, বরং সে আরও জেদি বা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) শিশুদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতেন, তা আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

হজরত আনাস (রা.) বলেন,

خَدَمْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي: أُفٍّ، وَلاَ: لِمَ صَنَعْتَ؟ وَلاَ: أَلَّا صَنَعْتَ

‘আমি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমত করেছি। তিনি কখনো আমাকে ‘উফ’ শব্দটিও বলেননি এবং কখনো বলেননি যে, তুমি এই কাজ কেন করলে বা এই কাজ কেন করলে না?’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর সঙ্গে খেলতেন, তারা তার পিঠে চড়তেন। তিনি শিশুদের মারার পরিবর্তে আদর ও দোয়ার মাধ্যমে সংশোধন করতেন। ৫ বছর বয়স শাসনের নয়, বরং গভীর মমতা ও বন্ধুত্বের বয়স।

আরও পড়ুন
আপনি আল্লাহকে অনেক বলছেন, কিন্তু ফল পাচ্ছেন না—এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার সন্তানকে দিয়ে হয়তো আপনার ধৈর্য পরীক্ষা করছেন। জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা পাওয়ার জন্য আল্লাহ অনেক সময় বান্দাকে এমন কিছু পরীক্ষা দেন, যা তার মনের মতো হয় না।

আপনি হয়তো চাচ্ছেন, সন্তান রোবটের মতো সব কথা শুনুক। কিন্তু আল্লাহ চাচ্ছেন, আপনি আপনার শাসনের পদ্ধতি পরিবর্তন করুন। অনেক সময় আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই, কিন্তু আমরা নিজেরা আমাদের আচরণ (যেমন শিশুকে মারা বা চিৎকার করা) পরিবর্তন করি না।

আপনার জন্য পরামর্শ:

১. মারধর একদম বন্ধ করুন। ৫ বছর বয়সের শিশুকে মারলে তার হিতে বিপরীত হয়। সে জেদি হয়ে ওঠে অথবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ইসলামে শিশুকে নামাজের জন্য শাসন করতে বলা হয়েছে ৭ বছর বয়সে, তাও খুব মৃদু। ৫ বছর বয়সে মারা শরিয়তসম্মত নয়।

২. যখন তাকে কিছু নিষেধ করবেন, তখন দূর থেকে চিৎকার না করে তার উচ্চতায় বসে (হাঁটু গেড়ে) তার চোখের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বুঝিয়ে বলুন।

৩. সে যখন কোনো ভালো কাজ করে বা একবার কথা শোনে, তখন তাকে অনেক প্রশংসা করুন এবং পুরস্কার দিন। এতে সে আপনার কথা শুনতে উৎসাহিত হবে।

৪. সন্তানের জন্য এই দোয়াটি প্রতিদিন সিজদায় বা নামাজের পর পড়ুন—

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

(সূরা ফুরকান: ৭৪)

৫. শিশু যখন ঘুমিয়ে থাকে বা শান্ত থাকে, তখন তার মাথায় হাত রেখে সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিন এবং আল্লাহর কাছে তার হেদায়েত চান।

আরও পড়ুন
৬. শিশু উপদেশ শুনে শেখে না, দেখে শেখে। আপনি নিজের আচরণ ও ইবাদত দিয়ে তার সামনে উদাহরণ তৈরি করুন।

সন্তানের প্রতি রাগের পরিবর্তে করুণা করুন। সে যখন কথা শুনবে না, তখন তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করুন। দেখবেন, ভালোবাসা দিয়ে যা সম্ভব, ভয় দেখিয়ে তা সম্ভব নয়। আল্লাহ আপনার সন্তানকে চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার