বিজ্ঞাপন
টুপি পরা কি সুন্নত? যা বললেন ডা. জাকির নায়েক
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
এক টিভি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ডা. জাকির নায়েকেকে প্রশ্ন করেন, টুপি বা মাথা ঢেকে রাখা কি সুন্নত? বিশেষ করে দেখা যায়, অনেকেই গালফ অঞ্চলে বসবাস করে কিংবা হজ পালন করে ফিরে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ আদায়ের সময় টুপি সরিয়ে ফেলেন বা মাথা খালি রাখেন। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এর কি কোনো ভিত্তি আছে?
উত্তরে ডা. জাকির নায়েক বলেন:
“প্রশ্নের প্রথম অংশ নিয়ে যদি বলি, মাথা ঢেকে রাখা কি সুন্নত কিংবা মুস্তাহাব? অসংখ্য হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত যে, নবী করিমের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথা সর্বদাই আবৃত থাকত তা টুপি, পাগড়ি কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রের শিরস্ত্রাণ যা দিয়েই হোক না কেন। এমন কি সাহাবিদের মাথাও আবৃত থাকত। সহিহ মুসলিমের হজ অধ্যায়ে (হাদিস নম্বর: ৩১৪৮) বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ভাষণ দেন, তখন তার মাথায় একটি কালো পাগড়ি ছিল।
এ ছাড়া হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, মহানবী (সা.) সাদা টুপি পরিধান করতেন। ইমাম তাবরানি এই হাদিসটিকে ‘হাসান’ মর্যাদার বলেছেন এবং ইমাম সুয়ুতি এটিকে নির্ভরযোগ্য হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরবিতে টুপিকৈ ‘কুফি’ বলা হয়, যা আমাদের উপমহাদেশে টুপি নামে পরিচিত। সহিহ বুখারির পোশাক অধ্যায়ে (হাদিস নম্বর: ৫৮০২) এসেছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) টুপি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতেন।
টুপি পরা সুন্নত নাকি আরবের সংস্কৃতি?
এই সকল হাদিসের ভিত্তিতে চার মাজহাবের ইমামগণ তথা ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-সহ প্রায় সব আলেম একমত যে, মাথা ঢেকে রাখা মুস্তাহাব এবং এটি মহানবীর (সা.) সুন্নত। নামাজ আদায়ের সময়ও মাথা ঢেকে রাখা মুস্তাহাব এবং খালি মাথায় নামাজ পড়া মাকরুহ।
এখন প্রশ্ন ওঠে, মধ্যপ্রাচ্য বা গালফ দেশগুলোতে বসবাস করে অথবা হজ করে আসার পর অনেকেই কেন খালি মাথায় নামাজ পড়েন? আগে ভারতে মসজিদে শতভাগ মানুষই টুপি পরে নামাজ পড়তেন। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ খালি মাথায় সালাত আদায় করছেন। এর মূল কারণ হলো, তারা বিদেশে গিয়ে জানতে পারেন যে, নামাজ কবুল হওয়ার জন্য টুপি পরা ফরজ নয়। টুপি ছাড়াও নামাজ হয়ে যায়। এই জ্ঞানটুকু পাওয়ার পর তারা নিজেদের জ্ঞান জাহির করতেই হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে টুপি পরিধান ছেড়ে দেন। অথচ এটি যে একটি মুস্তাহাব ও সুন্নত কাজ, সে বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান।
অনেকে যুক্তি দেন, ইহরাম অবস্থায় খালি মাথায় নামাজ পড়া হয়, তাই সাধারণ অবস্থায়ও টুপি ছাড়া নামাজ পড়া যাবে। এই যুক্তিটি সম্পূর্ণ ভুল। ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢাকা হারাম। যেমনটা চুল বা নখ কাটা সাধারণ সময়ে মুস্তাহাব হলেও ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ। সাধারণ সময় ও ইহরামের বিধান এক নয়। মিসরের কিছু আলেমের শিথিল ফতোয়া কিংবা অসম্পূর্ণ জ্ঞানের কারণে সাধারণ মানুষ সুন্নাত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
ইমাম আলবানি (রহ.) ও শায়খ বিন বাজসহ গালফ দেশগুলোর বড় বড় আলেমদের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা সকলেই সর্বদা মাথা ঢেকে রাখতেন ও রাখেন। ইমাম মালেক (রহ.) বলেছেন, ইসলামের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আলেম, সাহাবি ও সালাফদের যুগপরম্পরায় মাথা ঢেকে রাখার এই রীতি চলে আসছে। তাই খালি মাথায় নামাজ আদায় না করে টুপি বা পাগড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা উচিত, যা রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নত এবং এতে সওয়াব অর্জিত হয়।”