Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ নারী সাহাবি

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ নারী সাহাবি

বিজ্ঞাপন

ইসলামের প্রচার-প্রসারে, দ্বীনের সুরক্ষা ও অনন্য আত্মত্যাগের ইতিহাসে পুরুষ সাহাবিদের পাশাপাশি নারী সাহাবিদের ভূমিকা ছিল স্বর্ণোজ্জ্বল। সাহসিকতা ও ইমানের শক্তিতে অনেক ক্ষেত্রে তারা ছিলেন অগ্রগামী, যার উজ্জ্বল প্রমাণ ইসলামের ইতিহাসের প্রথম শহীদ একজন নারী। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় প্রায় ২০ জন নারী সাহাবির জীবদ্দশাতেই জান্নাতি হওয়ার সুসংবাদ পাওয়ার ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে থেকে ১০ জন বিশিষ্ট মহীয়সী নারীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো—

১. হজরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)

তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রথম সহধর্মিণী এবং সর্বাগ্রে ইসলাম গ্রহণকারী মহীয়সী নারী। কঠিন বিপদসঙ্কুল দিনগুলোতে তিনি নিজের জীবন, ভালোবাসা ও অঢেল সম্পদ দিয়ে মহানবী (সা.)-এর পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জিবরিল (আ.) নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে খাদিজা (রা.)-কে আল্লাহর পক্ষ থেকে ও নিজের পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং জান্নাতে মুক্তার তৈরি এক অনন্য প্রাসাদের সুসংবাদ দেন, যেখানে কোনো শোরগোল বা দুঃখ-ক্লেশ থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৩৮২০)

২. হজরত ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (রা.)

তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদরের কনিষ্ঠ কন্যা, হজরত আলী (রা.)-এর সহধর্মিণী এবং জান্নাতি যুবকদের সর্দার হাসান-হুসাইনের (রা.) সম্মানিত মা। মৃত্যুর পূর্বে নবীজি (সা.) তার কানে কানে ফিসফিস করে জানান যে, পরিবারে তিনিই প্রথম তার সঙ্গে মিলিত হবেন এবং তিনি জান্নাতবাসী সকল ইমানদার নারীর সর্দার হবেন। এই পরম সুসংবাদ শুনে তিনি তৃপ্তির হাসি হেসেছিলেন। (বুখারি ৩৬২৩)

৩. হজরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)

তিনি ছিলেন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর প্রজ্ঞাবান কন্যা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী। নবীজির (সা.) ইন্তেকালের পর ইসলামি জ্ঞানচর্চা, ফিকহ ও হাদিস বর্ণনায় তার অবদান ছিল অতুলনীয়। হাদিসে এসেছে, ‘জিবরিল (আ.) সবুজ রেশমি কাপড়ে মোড়ানো আয়েশা (রা.)-এর প্রতিচ্ছবি নিয়ে এসে নবীজি (সা.)-কে জানান, ইনি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার জীবনসঙ্গিনী।’ (তিরমিজি ৩৮৮০)

৪. হজরত হাফসা বিনতে ওমর (রা.)

তিনি ছিলেন খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) কন্যা এবং মহানবী (সা.)-এর অন্যতম স্ত্রী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার, অধিক নফল রোজা ও তাহাজ্জুদ আদায়কারী। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে সাময়িকভাবে তালাক দিলে জিবরিল (আ.) এসে বলেন—

رَاجِعْ حَفْصَةَ فَإِنَّهَا صَوَّامَةٌ قَوَّامَةٌ وَإِنَّهَا زَوْجَتُكَ فِي الْجَنَّةِ

‘আপনি হাফসাকে ফিরিয়ে নিন। কারণ, তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার (অধিক নফল রোজা ও তাহাজ্জুদ আদায়কারী) এবং জান্নাতেও তিনি আপনার স্ত্রী।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম ৬৭৯০)

৫. হজরত সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত (রা.)

তিনি ইসলামের ইতিহাসে সর্ব প্রথম শহীদ। ইমান গ্রহণের অপরাধে মক্কার মুশরিকরা তার পুরো পরিবারকে অকথ্য ও অমানুষিক নির্যাতন করে। চরম অত্যাচার সহ্য করেও ইমানের ওপর পাহাড়ের মতো অবিচল থাকায় আবু জাহেলের বর্শার আঘাতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। নবীজি (সা.) তাদের এই ধৈর্যের কথা শুনে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন—

صَبْرًا آلَ يَاسِرٍ، فَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْجَنَّةُ

‘হে ইয়াসার পরিবার, তোমরা ধৈর্য ধারণ কর; তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান হলো জান্নাত।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম ৫৬২০)

৬. হজরত উম্মে জুফার (রা.)

তিনি ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ ও দীর্ঘদেহের এক নারী সাহাবি, যিনি মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে আরোগ্যের জন্য দোয়ার আরজ করলে নবীজি (সা.) তাকে বলেন—

إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ

‘তুমি যদি (এই রোগ নিয়ে) ধৈর্য ধারণ কর, তবে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। তিনি দুনিয়ায় জান্নাতের বিনিময়ে হাসিমুখে এই কঠিন ব্যাধি সহ্য করে নেওয়ার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।’ (বুখারি ৫৬৫২)

আরও পড়ুন
৭. হজরত উম্মে সুলাইম রুমাইসা বিনতে মিলহান (রা.)

তিনি হলেন বিখ্যাত সাহাবি হজরত আনাস (রা.)-এর রত্নগর্ভা মা, যিনি ‘গুমাইসা’ নামেও পরিচিত ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসে ইরশাদ করেন—

دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ خَشْفَةً، فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: الرَّمَيْصَاءُ بِنْتُ مِلْحَانَ

‘আমি (মে’রাজের রাতে) জান্নাতে প্রবেশ করে কার যেন পায়ের মৃদু শব্দ শুনতে পেলাম। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম, তিনি গুমাইসা বিনতে মিলহান।’ (মুসলিম ৬০৯৮)

৮. হজরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান (রা.)

তিনি ছিলেন উম্মে সুলাইম (রা.)-এর আপন বোন ও উবাদা বিন সামিত (রা.)-এর স্ত্রী। নবীজি (সা.) তার জন্য শাহাদাতের দোয়া করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সমুদ্র অভিযানে অংশ নিয়ে ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে তিনি শাহাদাতবরণ করেন এবং জান্নাতি কাফেলার সঙ্গে যুক্ত হন।’ (বুখারি ৬২৮২)

৯. হজরত ফাতেমা বিনতে আসাদ (রা.)

তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্নেহময়ী চাচি ও আলী (রা.)-এর সম্মানিত মা। নবীজি (সা.) তাকে নিজের মায়ের মতো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসতেন। তার ইন্তেকালের পর নবীজি (সা.) নিজ মোবারক জামা দিয়ে তাকে কাফন পরান এবং জানান যে জিবরিল (আ.) তাকে সুসংবাদ দিয়েছেন— ‘ফাতেমা (রা.) জান্নাতবাসী।’ (আল মুস্তাদরাক ৪৬৩১)

১০. হজরত উম্মে রোমান বিনতে আমের (রা.)

তিনি ছিলেন উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর মা এবং হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সহধর্মিণী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিদুষী, মার্জিত ও দ্বীনের পথে অগ্রগামী সাহাবি। তার দাফনের সময় নবীজি (সা.) তার শানে স্পষ্ট ঘোষণা দেন—

مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى امْرَأَةٍ مِنْ حُورِ الْعِينِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى أُمِّ رُومَانَ

‘যে ব্যক্তি জান্নাতি হুর দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন উম্মে রোমানকে দেখে।’ (তাবাকাতুল কুবরা ১০৭১৩)

ইসলামের সূচনালগ্নে এই প্রাতঃস্মরণীয় মহীয়সী নারীদের ত্যাগ, ইমান ও আনুগত্য কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মুমিন নারীর জন্য সুদৃঢ় ইমানি দিকনির্দেশনা ও অনুকরণীয় আদর্শ। মহান আল্লাহ আমাদের তাদের পবিত্র পদাঙ্ক অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার