বিজ্ঞাপন
ডেভেলপমেন্ট ব্যবসায় নির্ধারিত লাভ নেওয়া কি সুদ?
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
একটি সমিতি একটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ডেভেলপমেন্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগের বিপরীতে তিনি সমিতিকে তার লভ্যাংশ থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লাভ দেবেন। অর্থাৎ ৩ লাখ টাকার বিপরীতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ দেওয়া হবে। এভাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের লাভ নেওয়া কি সুদ হিসেবে গণ্য হবে?
উত্তরে ঢাকার পল্লবীর জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের মুফতি মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম জানান, সমিতি ৩ লাখ টাকা একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে এবং কোম্পানিও এতে নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করেছে। অর্থাৎ উভয় পক্ষের মূলধন একই ব্যবসায় নিয়োজিত হয়েছে। তাই এটি মূলত শিরকাত বা অংশীদারিত্বের কারবার হিসেবে গণ্য হবে।
এ ধরনের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রকল্প থেকে যে প্রকৃত লাভ হবে, তা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অনুপাতে অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে। তবে ৩ লাখ টাকার বিপরীতে আগে থেকেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত লাভ হিসেবে নির্ধারণ করা জায়েজ হবে না। কারণ শিরকাতের ক্ষেত্রে লাভ নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক হিসেবে নয়, বরং প্রকৃত লাভের একটি অংশ বা শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করতে হয়।
এ ক্ষেত্রে ব্যবসায় লোকসান হলে কী হবে?
উত্তরে তিনি বলেন, শিরকাতের ক্ষেত্রে ব্যবসায় প্রকৃত লোকসান হলে প্রত্যেক অংশীদারকে তার মূলধনের অনুপাত অনুযায়ী সেই লোকসান বহন করতে হবে। যেমন, কোনো প্রকল্পে মোট মূলধন ১০ লাখ টাকা এবং সমিতির বিনিয়োগ ৩ লাখ টাকা হলে সমিতির অংশ হবে ৩০ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যবসায়িক লোকসানের ৩০ শতাংশ সমিতিকে এবং ৭০ শতাংশ কোম্পানিকে বহন করতে হবে।
তাই এমন শর্ত করা যাবে না যে, সমিতি লাভ পাবে, কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হলে তার মূলধনে কোনো লোকসান আসবে না।
من المستندات الشرعية
** «بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع» (৭/৫১৪):
«(ومنها) : أن يكون الربح معلوم القدر، فإن كان مجهولا تفسد الشركة؛ لأن الربح هو المعقود عليه، وجهالته توجب فساد العقد كما في البيع والإجارة.
** مجلة الأحكام العدلية» (ص২৫৪):
«الْمَادَّةُ (1329) شَرِكَةُ الْعَقْدِ عِبَارَةٌ عَنْ عَقْدِ شَرِكَةٍ بَيْنَ اثْنَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ عَلَى كَوْنِ رَأْسِ الْمَالِ وَالرِّبْحِ مُشْتَرَكًا بَيْنَهُمْ.»
** «مجلة الأحكام العدلية» (ص২৫৬):
«الْمَادَّةُ (১৩৩৬) يُشْتَرَطُ بَيَانُ الْوَجْهِ الَّذِي سَيُقْسَمُ فِيهِ الرِّبْحُ بَيْنَ الشُّرَكَاءِ ، وَإِذَا بَقِيَ مُبْهَمًا وَمَجْهُولًا تَكُونُ الشَّرِكَةُ فَاسِدَةً.
الْمَادَّةُ (১৩৩৭) يُشْتَرَطُ أَنْ تَكُونَ حِصَّةُ الرِّبْحِ الَّذِي بَيْنَ الشُّرَكَاءِ جُزْءًا شَائِعًا كَالنِّصْفِ وَالثُّلُثِ وَالرُّبْعِ فَإِذَا اُتُّفِقَ عَلَى أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِ الشُّرَكَاءِ كَذَا دِرْهَمًا مَقْطُوعًا مِنْ الرِّبْحِ تَكُونُ الشَّرِكَةُ بَاطِلَةً.»
** «الهداية في شرح بداية المبتدي» (৩/১১):
«قال: "ولا تجوز الشركة إذا شرط لأحدهما دراهم مسماة من الربح" لأنه شرط يوجب انقطاع الشركة فعساه لا يخرج إلا قدر المسمى لأحدهما، ونظيره في المزارعة.»
** «حاشية ابن عابدين = رد المحتار» (৪/ ৩০৫):
«(وشرطها) أي شركة العقد (كون المعقود عليه قابلا للوكالة) فلا تصح في مباح كاحتطاب (وعدم ما يقطعها كشرط دراهم مسماة من الربح لأحدهما) لأنه قد لا يربح غير المسمى»
والله اعلم بالصواب