বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দুপুরের দিকে অর্থাৎ সূর্য ঢলে যাওয়ার সামান্য পূর্বে কিংবা পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া বা হালকা ঘুমিয়ে নেওয়াকে আরবিতে ‘কাইলুলা’ বলা হয়। বিখ্যাত আরবি ভাষাবিদ ইবনুল আসীরের (রহ.) মতে, মধ্যাহ্নে শুয়ে বিশ্রাম নেওয়াই কাইলুলা, সে সময় ঘুম আসুক কিংবা না আসুক, বিশ্রাম নেওয়াটাই মুখ্য।
রাসুলুল্লাহর (সা.) যুগে তাঁর ও সাহাবায়ে কেরামের একটি দৈনন্দিন অভ্যাস ছিল এই কাইলুলা। সাধারণ দিনগুলোতে তাঁরা সাধারণত জোহরের নামাজের আগেই আহার সম্পন্ন করতেন এবং কাইলুলা করতেন। তবে জুমার দিন তাঁদের এই রুটিনে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যেত।
জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) মধ্যাহ্নের পর প্রথম জুমার নামাজ আদায় করতেন। জুমার নামাজের পর তারা দুপুরের খাবার গ্রহণ করতেন এবং কাইলুলা করতেন বা শুয়ে বিশ্রাম নিতেন।
হজরত সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘জুমার দিন আমরা নবী কারীমের (সা.) সঙ্গে প্রথমে জুমার নামাজ আদায় করতাম, তারপর কাইলুলা করতাম।’ (সহিহ বুখারি)
বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) তার বিশ্ববিখ্যাত হাদিস ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’তে বলেন, এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, কাইলুলা করা সাহাবিদের প্রতিদিনের অভ্যাস ছিল, জুমার দিন কাইলুলার সময়সূচির কিছুটা পরিবর্তন ঘটত।
কাইলুলার উপকারিতা কী?
নবীজি (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। তারপর ফজরের নামাজ আদায় করে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত হয়ে যেতেন। ফজরের নামাজের পর ঘুমানোর অভ্যাস তাদের ছিল না। তাই মধ্যাহ্নের আগে-পরে খাবার খেয়ে এই কায়লুলা বা কিছুক্ষণের বিশ্রাম তাদের ক্লান্তি দূর করে দিনের বাকি সময় কর্ম তৎপর থাকতে সাহায্য করতো। পাশাপাশি পরবর্তী রাতে তাহাজ্জুদের জন্য রাত জাগও তাদের জন্য সহজ হতো।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আপনারা সাহরি খাওয়ার মাধ্যমে দিনের রোজা রাখার শক্তি অর্জন করুন এবং দুপুরে কাইলুলার মাধ্যমে রাতের কিয়াম তথা তাহাজ্জুদ আদায়ের শক্তি লাভ করুন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, সহিহ ইবনে খুজাইমা)।
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কাইলুলা করো; শয়তান কাইলুলা করে না।’ (আল-মুজামুল আওসাত)