বিজ্ঞাপন
সিজদায় থাকা অবস্থায় ইমামের মৃত্যু, জামাত শেষ করেন মুসল্লিরা
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ এএম
বিজ্ঞাপন
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব কালিমান্তানের বালিকপাপন শহরে ফজরের নামাজে ইমামতি করার সময় সিজদায় থাকা অবস্থায় মারা গেছেন হ. আন্দি শামসুল বাহরি। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি মসজিদ জামি আল-উলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দি শামসুল বাহরি ফজরের নামাজের প্রথম রাকাতে সিজদায় যান। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও তিনি সিজদা থেকে উঠছিলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে পেছনের কয়েকজন মুসল্লি তার অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সামনের দিকে পড়ে যান।
এরপর প্রথম সারির এক মুসল্লি এগিয়ে এসে ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জামাতের নামাজ শেষ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। ফুটেজটি প্রায় ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেটিক জানিয়েছে।
মসজিদটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আন্দি শামসুল বাহরি মসজিদ জামি আল-উলার নিয়মিত ইমামদের একজন ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সদালাপী ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বালিকপাপনের একটি ফার্মেসির মালিক ছিলেন এবং স্থানীয় মুসল্লিদের অসুস্থতার সময় ওষুধ নিয়ে পরামর্শ দিতেন।
ইন্দোনেশিয়ার আন্তারা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর সময় আন্দি শামসুল বাহরির বয়স ছিল ৫৯ বছর। নামাজের শুরুতে তাকে স্বাভাবিক ও সুস্থই মনে হয়েছিল। তবে ফাতিহা পড়ার সময় তিনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গিয়েছিলেন বলে মসজিদসংশ্লিষ্ট একজনের বরাতে জানানো হয়।
ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সিজদায় তার মৃত্যুর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ঘটনাটিকে ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। তবে কোনো ব্যক্তির পরকালীন মর্যাদা বা পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর ওপরই ন্যস্ত।