বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ইসলামে জুমার দিনকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত মসজিদে পৌঁছানো। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন গোসল করে প্রথম সময়ে মসজিদে যাওয়ার জন্য বিশেষ সওয়াবের কথা জানিয়েছেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
«مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً...»
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। দ্বিতীয় সময়ে গেলে গরু কোরবানির সওয়াব, তৃতীয় সময়ে গেলে শিংওয়ালা দুম্বা কোরবানির সওয়াব, চতুর্থ সময়ে গেলে মুরগি সদকা করার সওয়াব এবং পঞ্চম সময়ে গেলে ডিম সদকা করার সওয়াবের মতো প্রতিদান পাবে।
এরপর ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা উপস্থিত হয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১; সহিহ মুসলিম)
জুমার দিন দ্রুত মসজিদে যাওয়ার ফজিলত নিয়ে হযরত আওস ইবনে আওস (রা.) থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে সকাল সকাল মসজিদের উদ্দেশে রওনা হয়, যানবাহনের পরিবর্তে পায়ে হেঁটে যায়, ইমামের কাছে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং কোনো অনর্থক কাজে লিপ্ত হয় না, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছর রোজা রাখা ও রাতে নফল নামাজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব লেখা হয়।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, জুমার দিনের ফজিলত শুধু নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গোসল করে পবিত্র হওয়া, সময়ের শুরুতেই মসজিদের দিকে রওনা হওয়া, সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া, ইমামের কাছাকাছি বসা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনাও বিশেষ সওয়াবের আমল।
তাই জুমার দিনে নামাজের সময়ের অপেক্ষা না করে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত। হাদিসে বর্ণিত এই ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো পালনের মাধ্যমে একজন মুসলমান জুমার দিনের বরকত ও সওয়াব অর্জনের সুযোগ নিতে পারেন।