Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

মৃত আপনজনের জন্য দোয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

মৃত আপনজনের জন্য দোয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

বিজ্ঞাপন

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জীবনের সবচেয়ে অমোঘ ও ধ্রুব সত্য হলো মৃত্যু। প্রিয়জনের বিচ্ছেদ আমাদের হৃদয়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলে, কিন্তু একজন মুমিনের কাছে মৃত্যু কেবল জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং অনন্তকালের এক নতুন জীবনের সূচনা। মৃত আপনজন যখন পরপারের বাসিন্দা হয়ে যান, তখন জীবিতদের অশ্রু নয়, বরং তাদের আন্তরিক দোয়াই হয়ে ওঠে মৃত ব্যক্তির আত্মার সবচেয়ে বড় প্রশান্তি ও মুক্তির মাধ্যম। প্রিয়জন হারানোর বেদনার মাঝেও তাদের পরকালীন কল্যাণের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই হলো জীবিতদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর উপহার।

মৃত্যুর অমোঘ সত্য ও নতুন জীবনের সূচনা

মৃত্যু এমন একটি বাস্তবতা যা থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। এটি পার্থিব জীবনের অবসান ঘটিয়ে মানুষকে আখিরাতের অনন্ত জীবনের দিকে নিয়ে যায়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এই ধ্রুব সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এভাবে—

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ

‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)

এই চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো মৃত আপনজনের জন্য দোয়া করা, যা তাদের কবরের জীবনকে শান্তিময় করে তোলে।

মৃত্যুর পরও সওয়াব লাভের মাধ্যম

মানুষ মারা গেলে তার আমলের খাতা বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু কিছু বিশেষ আমলের সওয়াব মৃত্যুর পরও মৃত ব্যক্তির আমলনামায় পৌঁছাতে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নেক সন্তানের দোয়া।

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের ফায়দা বা সওয়াব অব্যাহত থাকে; এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং তিন. ওই সুসন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (মুসলিম ১৬৩১)

এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, একজন নেককার সন্তানের দোয়া তার মৃত পিতা-মাতার জন্য এক অফুরন্ত সওয়াবের উৎস।

পূর্বসূরিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা: নবীদের সুন্নাহ

মৃত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা, রহমত ও জান্নাতের আকুতি জানানো একটি মহান ইবাদত। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে আমরা দেখতে পাই, হযরত ইবরাহিম (আ.) এবং হযরত নুহ (আ.) তাদের পূর্বসূরি ও মুমিনদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাদের এই আমল আমাদের শিক্ষা দেয় যে, মৃতদের জন্য দোয়া করা নবীদের অনুপম সুন্নাহ।

আরও পড়ুন
কবর জিয়ারত ও মৃতদের জন্য দোয়া

মৃতদের জন্য দোয়া করা কবর আজাব থেকে মুক্তি এবং আখিরাতের কল্যাণের এক উত্তম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করতেন এবং সাহাবিদের শিক্ষা দিতেন।

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ، يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ، أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ

উচ্চারণ: ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম; আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসারি।’

অর্থ: ‘হে কবরের বাসিন্দাগণ! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের আগে চলে গেছ এবং আমরা তোমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।’ (তিরমিজি ১০৫৩)

মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা কেবল একটি ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং এটি জীবিত ও মৃতের মাঝে এক অবিচ্ছেদ্য আত্মিক বন্ধন। আমাদের একটি ছোট্ট দোয়া কবরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থাকা আপনজনের জন্য হতে পারে মুক্তির পরম আলো ও রহমতের সুবাতাস। এটি একদিকে যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর রহমত লাভের উপায়, অন্যদিকে তা জীবিতদের শোকাহত হৃদয়ে প্রশান্তি নিয়ে আসারও শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। তাই আসুন, আমরা আমাদের মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন এবং সব মুমিন-মুমিনাতের জন্য প্রতিনিয়ত আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ আমাদের পরবাসী আপনজনদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার