Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

বিজ্ঞাপন

ইসলামে মাজার বা কবর জিয়ারত করা মুস্তাহাব ও সুন্নাত। মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, আখেরাতের কথা স্মরণ এবং কবর থেকে শিক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যে কবর বা মাজার জিয়ারত করা যায়। তবে জিয়ারতের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে কোনো ধরনের শিরকি বা কুফরি বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে?

আখেরাতের স্মরণ, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া এবং শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে নবী, সাহাবি, ওলি কিংবা অন্য কোনো মুসলমানের কবর বা মাজার জিয়ারত করা জায়েজ। এ উদ্দেশ্যে দূরবর্তী স্থানে সফর করাও বৈধ।

তবে জিয়ারতের ক্ষেত্রে আকিদা ও আমলের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো ব্যক্তি যদি বিশ্বাস করেন যে মাজারের কবরে শায়িত পীর-দরবেশের কাছে রোগমুক্তি চাওয়া, মনের ইচ্ছা পূরণের আবেদন করা কিংবা বিপদ থেকে উদ্ধারের প্রার্থনা করা যাবে, তাহলে এ ধরনের বিশ্বাস শরিয়তসম্মত নয়।

সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা রোগ থেকে মুক্তি, সন্তান লাভ কিংবা কোনো মনোবাসনা পূরণের আশায় দূর-দূরান্তের মাজারে যান। আবার কেউ কেউ কবরকে সিজদা করেন, মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চান কিংবা কবরের চারপাশে তাওয়াফ করেন। এসব কাজ শিরকি ও কুফরি কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ ধরনের বিশ্বাস বা কাজের উদ্দেশ্যে কবর জিয়ারত কিংবা সেখানে যাওয়ার জন্য সফর করা জায়েজ নয়।

কবর জিয়ারতের সময় যে দোয়া পড়বেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরস্থানে গিয়ে কবরবাসীদের সালাম দিতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। সাহাবিদেরও তিনি কবর জিয়ারতের সময় সালাম ও দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন।

হজরত বুরায়দাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কবরস্থানে গিয়ে এই দোয়া পড়তে শিখিয়েছেন—

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلَاحِقُونَ نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ

উচ্চারণ: আসসালামু আলায়কুম আহলাদ দিয়ারি মিনাল মুমিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লালাহিকূনা নাসআলুল্লাহা লানা ওয়ালাকুমুল আফিয়াহ

অর্থ: হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হচ্ছি। আমরা আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। (সহিহ মুসলিম: ৯৭৫)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার মদিনার কবরস্থান অতিক্রম করার সময় কবরবাসীদের দিকে ফিরে বলেছিলেন—

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ

উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবূরি ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসারি।

অর্থ: হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি বৰ্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন, (পরকালের যাত্রায়) তোমরা আমাদের আগে গেছ আর আমরাও তোমাদের অনুসরণ করবো। (সুনানে তিরমিজি: ৫৯৬)

আরও পড়ুন
কবর জিয়ারতের সময় যেসব কাজ করা যাবে না

কবর জিয়ারতের সময় মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও শরিয়তের বিধান উভয়ই রক্ষা করতে হবে। কবরকে সিজদা করা, কবরবাসী ওলি বা দরবেশের কাছে কিছু চাওয়া কিংবা তার উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করা শিরকি ও গুরুতর গর্হিত কাজ। এ ছাড়া হাদিসে কবরস্থানে আরও কিছু কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১. কবরের ওপর বসা

কবরের ওপর বসা নিষিদ্ধ এবং এটি কবরের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কবরের ওপর বসার চেয়ে এমন আগুনের ওপর বসা উত্তম, যা মানুষের কাপড় পুড়িয়ে চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

(সহিহ মুসলিম: ৯৭১)

২. কবরের ওপর জুতা পরে হাঁটা

কবরের ওপর জুতা পরে হাঁটাহাঁটি করাও নিষেধ করা হয়েছে। হজরত বশির ইবনে খাসাসিয়া (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হাঁটছিলেন। নবীজি (সা.) মুসলমানদের একটি কবরস্থানে গিয়ে বললেন, তারা বহু মন্দ কাজ পরিত্যাগে অগ্রগামী হয়েছে। এরপর তিনি মুশরিকদের একটি কবরস্থানে গিয়ে বললেন, তারা বহু কল্যাণকর কাজ পরিত্যাগে অগ্রগামী হয়েছে।

এ সময় তিনি এক ব্যক্তিকে জুতা পরে কবরস্থানের মাঝখান দিয়ে হাঁটতে দেখে বললেন, ‘হে জুতা পরিধানকারী, তোমার জুতা খুলে ফেলো।’

(সুনানে নাসাঈ: ১০৭)

৩. কবরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়া

কবরের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কবরের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করবে না এবং কবরের ওপরও বসবে না।’

(সহিহ মুসলিম: ৯৭২)

৪. কবরস্থানে পশু জবাই করা

জাহেলি যুগে আরবদের মধ্যে কবরের পাশে পশু জবাই করার প্রচলন ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ধরনের কাজ থেকে নিষেধ করেছেন।

(সুনানে আবু দাউদ: ৩২২২)

সুতরাং মাজারে কবর জিয়ারতের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আখেরাতের কথা স্মরণ করা, মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিজের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা। কবর জিয়ারতের সময় সব ধরনের শিরকি বিশ্বাস ও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার করে ইসলামের নির্দেশিত আদব ও বিধান মেনে চলাই একজন মুসলমানের দায়িত্ব।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার