Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

জুমার দিনে করণীয় ও বর্জনীয়

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

জুমার দিনে করণীয় ও বর্জনীয়

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার জুমার দিন মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ বরকতময় দিন। এটি শুধু সাপ্তাহিক নামাজের দিন নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, সামাজিক সংহতি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মহান সুযোগ। এই দিনে কিছু কাজকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে, আবার কিছু কাজ থেকে কঠোরভাবে বারণ করা হয়েছে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনই দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছেন, এ দিনেই জান্নাতে প্রবেশ করেছেন, এবং এ দিনেই পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

জুমার দিনের করণীয়

১. গোসল করা। জুমার দিনের এই গোসল বিশেষ ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।

নবীজি (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে, তারপর মসজিদে আসে, নীরবে খুতবা শোনে ও নামাজ পড়ে, তার এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করা হয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)

২. পরিচ্ছন্ন পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার। জুমার নামাজে যাওয়ার আগে মুসলমানকে সুন্দর পোশাক পরা ও সুগন্ধি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এটি সামাজিক মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতার প্রতীক।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে তোমাদের জন্য সুন্দর পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৫২৪৮)

৩. তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া। জুমার নামাজে আগে পৌঁছানোর জন্য বড় ফজিলত রয়েছে। অর্থাৎ যত আগে যাবে, তত বেশি সওয়াব।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রথম ঘণ্টায় জুমার জন্য যায়, সে যেন উট কোরবানি করল; দ্বিতীয় ঘণ্টায় গেলে গরু কোরবানি করল; তৃতীয় ঘণ্টায় গেলে ভেড়া কোরবানি করল; চতুর্থ ঘণ্টায় গেলে মুরগি কোরবানি করল; আর পঞ্চম ঘণ্টায় গেলে ডিম দান করল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১)

৪. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা। খুতবা চলাকালীন কথা বলা, ফোন ব্যবহার করা বা অমনোযোগ হওয়া নিষিদ্ধ।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুতবা চলাকালীন তার সঙ্গীকে বলে “চুপ করো”, সে-ও অনর্থক কথা বলল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪)

৫. সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। জুমার দিনে সুরা কাহফ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হয়ে যাবে।’ (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৩৯২)

৬. দোয়া করা ও দরুদ পাঠ করা। জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন দোয়া কবুল হয়। অনেক আলেমের মতে, এই সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যেখানে কোনো মুসলমান নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫)

এ ছাড়া জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার নির্দেশও এসেছে, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার প্রতি বেশি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩১)

জুমার নামাজ আদায় না করলে যে শাস্তি

জুমার দিনের বর্জনীয়

১. জুমার নামাজ ত্যাগ না করা। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে জুমা বাদ দেওয়া ইমানের জন্য ভয়ংকর বিপদ।

নবীজি (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অলসতা বা উদাসীনতার কারণে তিনটি জুমা ত্যাগ করে, আল্লাহ তার হৃদয় সিল করে দেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৫২)

২. জুমা বাদ দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকা। জুমার সময় ব্যবসা-বাণিজ্য, অনলাইন কেনাকাটা বা অন্য ব্যস্ততা বড় গোনাহের কাজ।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন জুমার আহ্বান দেওয়া হয়, তখন আল্লাহর স্মরণে ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করো।’ (সুরা আল-জুমা, আয়াত: ৯)

৩. উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলা। মসজিদে অন্যদের বিরক্ত করা, ফোনে কথা বলা, এমনকি নামাজের আগে অপ্রয়োজনে গল্প করা জুমার আদববিরোধী কাজ।

৪. খুতবার সময় চলাফেরা না করা। খুতবা চলাকালে যেকোনো অযথা নড়াচড়া বা সামনে যাওয়া, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘এতে “সওয়াব নষ্ট হয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৭)

৫. নামাজ শেষে গাফেল না থাকা। অর্থাৎ কাজ করবে ঠিকই, কিন্তু মনে যেন আল্লাহর স্মরণ থাকে।

জুমার পরপরই নামাজ বা দোয়া না করে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যাওয়া উচিত নয়। আল্লাহ বলেন, ‘যখন নামাজ শেষ হবে, তখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো, কিন্তু আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার